গত ২৬ সেপ্টেম্বর কমিশনের বৈঠকের পর জানানো হয়েছিল, SIR চলাকালীন নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া কার্যকর থাকবে। কিন্তু SIR-এর সময়সীমার বাইরে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ফর্মই ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে ECINT-এর কার্যপ্রণালী পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও জানানো হয়। তার চার দিনের মধ্যেই SIR শেষ হওয়া রাজ্যগুলিতে অনলাইন ‘ফর্ম ৬’-এর অতিরিক্ত অংশ সরিয়ে দেওয়া হল।
‘ফর্ম ৬’ নতুন ভোটার হিসেবে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য নির্ধারিত বিধিবদ্ধ আবেদনপত্র। সাম্প্রতিক বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল অনলাইন ফর্মের সঙ্গে যুক্ত অতিরিক্ত SIR-ঘোষণা। সেখানে আবেদনকারীর নিজের বা বাবা-মা, দাদা-দিদার আগের SIR-এর তালিকায় নাম ছিল কি না, থাকলে সংশ্লিষ্ট বুথ ও ক্রমিক নম্বরের মতো তথ্য চাওয়া হচ্ছিল। কমিশনের বক্তব্য ছিল, মূল ‘ফর্ম ৬’-এ কোনও পরিবর্তন করা হয়নি; SIR চলাকালীন অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র নেওয়া হয়েছিল মাত্র।
তবে এই অতিরিক্ত অংশ নিয়েই কমিশনের অন্দরে আপত্তি ওঠে বলে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির বিষয়টি সামনে আসে। তাঁদের যুক্তি ছিল, ‘ফর্ম ৬’ যেহেতু ১৯৬০ সালের বিধির অধীন নির্ধারিত বিধিবদ্ধ ফর্ম, তাই শুধুমাত্র প্রশাসনিক নির্দেশে তাতে পরিবর্তন আনা নিয়ে আইনি প্রশ্ন রয়েছে।
এই আবহেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব কংগ্রেস। SIR বন্ধ করা, বাদ পড়া ভোটারদের নাম ফেরানো এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছে দল। বিরোধীদের অভিযোগ, SIR-এর মাধ্যমে বহু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সংসদের ভিতরে বিরোধিতার পাশাপাশি রাস্তায় আন্দোলনের রূপরেখা নিয়েও INDIA জোটে আলোচনা হওয়ার কথা।
ফলে ‘ফর্ম ৬’ থেকে অতিরিক্ত ঘোষণা প্রত্যাহারকে ঘিরে বিতর্ক আপাতত থামেনি। বরং SIR, ভোটার তালিকা এবং ECINET-এর ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে।
