নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: রামের নাম নিতে না নিতেই শিল্পাঞ্চলের উত্তপ্ত রাজনীতিতে এবার ঢুকে পড়ল ‘মদ’ আর ‘তলোয়ার’। রামনবমীকে ঘিরে আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে রাজনৈতিক পারদ যে ভাবে চড়ছে, তাতে উৎসবের আড়ালে যুযুধান দুই শিবিরের লড়াই এখন কার্যত রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছে। শুক্রবার দুপুরে দুর্গাপুরের নিশানহাট এলাকায় এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিজেপিকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ। তাঁর অভিযোগ, ভক্তি নয়, বিজেপির রামনবমী মানেই ‘মদ আর পেশ পেশিশক্তি’।
নিশানহাটে কীর্তির তোপ
১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নিশানহাটে এক জনসভায় দাঁড়িয়ে কীর্তি আজাদ রীতিমতো চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন গেরুয়া শিবিরকে। তাঁর দাবি, রামনবমীর পবিত্র শোভাযাত্রাকে কলুষিত করছে বিজেপি কর্মীরা। সাংসদের কথায়, “বিজেপির লোকেরা মদ্যপান করে হাতে তলোয়ার নিয়ে রাস্তায় নামছে। এটা কি রামনবমী? এটা ধর্মের অবমাননা।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, রামনবমীর ইতিহাস বিজেপির জন্মেরও বহু আগের। তাই এই উৎসবকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি বলে দাবি করা হাস্যকর।
ভোটের ময়দানে রাম-তাস
তবে শুধুমাত্র ধর্মীয় বিতর্ক নয়, কীর্তির গলায় শোনা গেল চেনা রাজনৈতিক সুরও। অনুষ্ঠানমঞ্চে তাঁর পাশেই ছিলেন দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্ত। কবিবাবুকে পাশে নিয়েই এলাকার মানুষের কাছে ভোটের আবেদন জানান সাংসদ। অর্থাৎ, রামনবমীর মঞ্চকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতিকে বিঁধলেন তিনি, তেমনই পরোক্ষভাবে ঘর গোছানোর কাজও সারলেন শাসকদলের এই হেভিওয়েট নেতা।
পাল্টা আক্রমণের অপেক্ষা
যদিও কীর্তি আজাদের এই ‘মদ-তলোয়ার’ মন্তব্যের পর শিল্পাঞ্চলের গেরুয়া শিবিরে পাল্টা চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছে যে, পায়ের তলায় মাটি নেই বলেই তৃণমূল এখন উৎসবের মধ্যেও কুৎসা খুঁজছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে রামের নাম নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির এই রশি টানাটানি দুর্গাপুরের অলিতে-গলিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে ভক্তি আর অন্যদিকে রাজনৈতিক আধিপত্য— এই দুইয়ের মিশেলে সরগরম পশ্চিম বর্ধমান।