নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: ভোটের হাওয়ায় তপ্ত শিল্পাঞ্চল। কিন্তু রামনবমীর মিছিলে দেখা গেল উল্টো ছবি। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে রামনবমীর শোভাযাত্রায় মুখোমুখি হলেন দুই যুযুধান শিবিরের দুই প্রার্থী। দুর্গাপুর পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্ত এবং বিজেপি প্রার্থী লক্ষণ ঘোরুইকে একসঙ্গে দেখা যেতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তৃণমূল প্রার্থীর দাবি এটি নিছকই ‘সৌজন্য’, যদিও পদ্ম শিবিরের খোঁচা— ‘চাপে পড়েই’ মিছিলে শামিল হয়েছেন শাসকদলের প্রার্থী।
এ দিন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ডাকে বেনাচিতির পাঁচমাথা মোড় থেকে ভিড়িঙ্গি মোড় পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই মিছিল ঘিরেই এ দিন বারুদ আর ভক্তির এক অদ্ভুত মিশেল দেখল দুর্গাপুর। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী লক্ষণ ঘোরুই এবং দুর্গাপুর পূর্বের প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়কে মিছিলে একেবারে সামনের সারিতে দেখা যায়। তবে নজর কেড়েছে তাঁদের হাতের অস্ত্র। লক্ষণের হাতে ছিল চকচকে তলোয়ার, আর চন্দ্রশেখরকে দেখা গেল লাঠি হাতে।
পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, রণক্ষেত্র বেনাচিতি
শোভাযাত্রা চলাকালীন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন পুলিশ লক্ষণ ঘোরুইয়ের হাত থেকে তলোয়ারটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে পুলিশের শুরু হয় তীব্র বাদানুবাদ ও ধস্তাধস্তি। তলোয়ার ছাড়তে নারাজ লক্ষণ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “যতক্ষণ মিছিল চলবে, ততক্ষণ তলোয়ার আমার হাতেই থাকবে।” নিজের সুরক্ষার জন্যই এই অস্ত্র রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সৌজন্যের আবহে রাজনীতির ছোঁয়া
মিছিলের মাঝে কবি দত্ত ও লক্ষণ ঘোরুইয়ের সাক্ষাৎ নিয়ে দুর্গাপুরের রাজনৈতিক অলিন্দে জল্পনা তুঙ্গে। কবি দত্ বলেন, “সৌজন্যের খাতিরেই দেখা হওয়া। উৎসব সবার।” পাল্টা বিঁধে লক্ষণ ঘোরুই বলেন, “আসলে পায়ের তলায় মাটি নেই বুঝতে পেরে এখন চাপে পড়ে মিছিলে আসতে হচ্ছে তৃণমূলকে।”
উল্লেখ্য, শিল্পাঞ্চলের এই মিছিলে আগাগোড়াই ছিল রাজনীতির চড়া সুর। একদিকে ভক্তি আর অন্যদিকে অস্ত্রের প্রদর্শনী— দুইয়ে মিলে রামনবমীর পারদ চড়ল কয়েক ডিগ্রি।