Get Started
একগুচ্ছ দূরদর্শী পদক্ষেপের স্পষ্ট রূপরেখায় পাখির চোখ মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ- এর
Home ⟾ Uncategorized  ⟾  একগুচ্ছ দূরদর্শী পদক্ষেপের স্পষ্ট রূপরেখায় পাখির চোখ মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ- এর
সারথি থেকে যোগ্যশ্রী, তপশিলি বন্ধু- জয় জোহার পেনশন; সরকারি প্রকল্প - এ সম্প্রসারণ, ডিজিটালাইজেশনে জোর এবং অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ ও জনশিক্ষা দপ্তরে একগুচ্ছ দূরদর্শী পদক্ষেপের স্পষ্ট রূপরেখায় পাখির চোখ মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ- এর। বিশেষ সাক্ষাতকার: অনুলিখনে: ঈশানী মল্লিক   ​মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ, জনশিক্ষা ও লাইব্রেরি দপ্তরের মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। প্রশাসনিক স্থবিরতা দূর করে কাজের গতি বৃদ্ধি, জাল জাতিগত শংসাপত্র রুখতে কড়া নজরদারি, যোগ্যশ্রী প্রকল্পের বিস্তার এবং পাঠাগারগুলির আধুনিকীকরণ ও ডিজিটালাইজেশন—একগুচ্ছ দূরদর্শী পদক্ষেপের স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরলেন তিনি। ​‘সারথি’: শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে ছাত্রছাত্রীদের সাইকেল বিতরণ ​সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের যাতায়াত সুগম করতে অন্যতম ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি ‘সারথি’। মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই প্রকল্প সম্পূর্ণ বৈষম্যহীন এবং সর্বজনীন। ​বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছাত্রীদের ক্ষেত্রে বিদ্যালয় ও বাড়ির দূরত্ব এর সমস্যা দূর করে স্কুলছুটের হার কমানো এবং নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের দৈহিক স্বাস্থ্যের বিকাশেও সহায়ক। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরকে নোডাল সংস্থা করে বিদ্যালয় শিক্ষা, আদিবাসী উন্নয়ন এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের সমন্বয়ে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। তফসিলি জাতি, উপজাতি ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি উন্নয়ন ও বিত্ত নিগম এর সহায়তায় "সারথি" র চাকা এগিয়ে চলছে। ফেজ -১২ তে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ১২.৫১ লক্ষ পড়ুয়াকে "সারথি" প্রকল্পের অন্তর্ভুক্তি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। সম্পূর্ণ স্বচ্ছ e-Tender প্রক্রিয়ায় সাইকেল ক্রয়ের পাশাপাশি, ‘Research & Development Centre for Bicycles & Sewing Machines’-এর মাধ্যমে 'Visual Inspection' ও 'Crash Testing' করে গুণমান নিশ্চিত করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ৮,২২৮টি স্কুল, ৩৩৪টি ব্লক, ১২৫টি পুরসভা ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে ডিজিটাল সংযোগের মাধ্যমে সাইকেল সরবরাহ ও বণ্টন ব্যবস্থা নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ হাওড়ার ব্যাটরা মধুসূদন পাল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৩০ জন ছাত্র এবং ৪৫ জন ছাত্রী মোট ৭৫ জন পড়ুয়ার হাতে কমলা-ধূসর রঙের নতুন বাই -সাইকেল তুলে দিয়ে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন। ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর রাজ্যজুড়ে (উপনির্বাচন চলায় মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব মেদিনীপুর ব্যতিকে) প্রায় ২ লক্ষ ১০ হাজার সাইকেল বিতরণ করা হবে। ‘যোগ্যশ্রী’ ও দক্ষতা উন্নয়ন: প্রশিক্ষণ থেকে সরাসরি কর্মসংস্থান ​আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার উপযোগী করে তুলতে ‘যোগ্যশ্রী’ প্রকল্পের আসন সংখ্যা ও প্রশিক্ষণের পরিসর পরিবর্ধন করা হচ্ছে। ​শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, আধুনিক বাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা উন্নয়ন (Skill Development) কর্মসূচিগুলি পুনর্গঠন করা হচ্ছে। লক্ষ্য—প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ-তরুণীদের জন্য সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। ​জাল শংসাপত্রে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও প্রকল্প সুরক্ষা ​ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র ব্যবহার করে প্রকৃত সুযোগ সুবিধাভোগীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ রুখতে জিরো-টলারেন্স নীতি গ্রহণ করছে দপ্তর। মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, বিশেষত SC ও ST তালিকার ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভুয়ো শংসাপত্র শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর ফলে ‘জয় জহর’, ‘তপসিলী বন্ধু’ এবং ‘যোগ্যশ্রী’র মতো সামাজিক সুরক্ষা কেন্দ্রিক প্রকল্পগুলির সুবিধা সঠিক উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছাবে। ​OBC তালিকা ও সংরক্ষণ কাঠামোয় সংস্কার ​OBC সংরক্ষণ ও তালিকা সংশোধন নিয়ে দপ্তরের নতুন পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী: একক OBC শংসাপত্র: OBC-A এবং OBC-B ব্যবস্থার জটিলতা দূর করে একক OBC শংসাপত্র চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। অধিকার সুরক্ষা: ১৯৯৩ সালে স্বীকৃত ৭৭টি গোষ্ঠীর বর্তমান স্থিতি বহাল রাখা হচ্ছে। ​সংরক্ষণ কাঠামো: বিধানসভায় গৃহীত বিলের প্রেক্ষাপটে ৬৬টি গোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত হার ১৭% থেকে কমিয়ে ৭% করা হলেও, ক্ষেত্রভিত্তিক সমীক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নতুন যোগ্য জনগোষ্ঠীকে এই কাঠামোর আওতায় এনে নিয়মানুগ নীতি অনুযায়ী সংরক্ষণের সুযোগ বাড়োনো হবে। গ্রন্থালয় ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও ডিজিটালাইজেশন ​জনশিক্ষা ও লাইব্রেরি দপ্তরকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল যুগের উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ​​প্রথম পর্যায়ে ৫০০ লাইব্রেরি ডিজিটাল: জেলা, মহকুমা ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ পাঠাগার মিলিয়ে প্রথম দফায় ৫০০টি লাইব্রেরিকে ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। ​​অনলাইন তথ্য ও ই-বুক: কোনো বই কোন পাঠাগারে উপলব্ধ, তা সাধারণ মানুষ মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমেই জানতে পারবেন। ভবিষ্যতে নিখরচায় ই-বুক পড়ার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। ​​পরিকাঠামো উন্নয়ন: পুরনো বা অপ্রয়োজনীয় বই সরিয়ে পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন বই সংগ্রহ, শিশুদের জন্য বিশেষ কর্নার, আধুনিক রিডিং রুম ও শৌচাগার সংস্কার এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিনামূল্যে কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ​​শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠাগার: স্কুল ও কলেজের লাইব্রেরিগুলি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অধীনে থাকলেও, কারিগরি ও অবকাঠামোগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ নেবে এই দপ্তর। ​কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, আধুনিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতাই এই ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনার মূল মূলভিত্তি। একদিকে 'সারথি' ও 'যোগ্যশ্রী' যেমন শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের ডানা মেলতে সাহায্য করছে, অন্যদিকে ডিজিটালাইজেশনের পথে হেঁটে পাঠাগারগুলি হয়ে উঠছে আধুনিক জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। এই প্রশাসনিক রূপান্তর রাজ্যজুড়ে কতখানি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *