নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: মিটেছে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। এখন সব নজর দুর্গাপুর সরকারি মহাবিদ্যালয়ের দিকে। নির্বাচন শেষ হতেই দুর্গাপুর পূর্ব, দুর্গাপুর পশ্চিম এবং পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের ব্যবহৃত ইভিএমগুলি কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ওই কলেজের স্ট্রংরুমে। আগামী গণনাপর্ব পর্যন্ত সেখানেই বন্দি থাকবে প্রার্থীদের ভাগ্য।
মঙ্গলবার রাত থেকেই দুর্গাপুর সরকারি মহাবিদ্যালয় চত্বর কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে। স্ট্রংরুমের পাহারায় মোতায়েন করা হয়েছে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। ২৪ ঘণ্টা সজাগ দৃষ্টি রাখছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। নজরদারিতে খামতি রাখছে না রাজ্য পুলিশও। উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা নিয়মিত তদারকি করছেন।এছাড়াও গোটা চত্বর সিসিটিভি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই নিরাপত্তার সামান্যতম বিচ্যুতি না ঘটে।
এদিন স্ট্রংরুম চত্বরেই আয়োজিত হয় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্ক্রুটিনি বৈঠক। নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে সেখানে যুযুধান সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি বসেন।উপস্থিত ছিলেন দূর্গাপুর পূর্বের তৃণমূলের প্রদীপ মজুমদার, বিজেপির চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিপিএমের সীমান্ত চট্টোপাধ্যায়,দুর্গাপুর পশ্চিমের তৃণমূলের তরফে এজেন্ট অসীমা চক্রবর্তী-সহ বিজেপি ও বাম প্রতিনিধিরা। ছাড়াও পাণ্ডবেশ্বর কেন্দ্রের সব দলের এজেন্টরাও প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।ভোটগ্রহণের দিন কোথাও কোনো বুথে যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না, মূলত তা খতিয়ে দেখতেই এই বৈঠক।
প্রশাসনের দাবি, ভোট-পরবর্তী এই গোটা প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সুরক্ষিত রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এক আধিকারিকের কথায়, “গণনার দিন পর্যন্ত এই কড়াকড়ি বজায় থাকবে। স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।”রাজনৈতিক মহলের মতে, স্ক্রুটিনি বৈঠকে সব দলের প্রতিনিধিদের সক্রিয় উপস্থিতি আদতে গণতন্ত্রের সেই চিরাচরিত ছবিকেই তুলে ধরল, যেখানে ভোট মেটার পর নজরদারি আর স্বচ্ছতাই এখন মূল লড়াই।