নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: গণতান্ত্রিক উৎসবে যোগ দেওয়ার আগেই তালিকায় কাঁটা? ভোটার তালিকা থেকে বহু নাম বাদ পড়ার অভিযোগে এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যের বিদায়ী পঞ্চায়েত মন্ত্রী তথা দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার। বুধবার দুর্গাপুরের ভিড়িঙ্গি শ্মশান কালী মন্দিরে পুজো দিয়ে এ ভাবেই সুর চড়ালেন তিনি।
এদিন সকালে ভিড়িঙ্গি শ্মশান কালী মন্দিরে পুজো দিতে যান প্রদীপবাবু। তৃণমূল প্রার্থীর গলায় ছিল দুশ্চিন্তা ও ক্ষোভের মিশেল। পুজো শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “বহু প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। কেন এমনটা হল, তা নিয়ে আমি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছি। এটা সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার সামিল।”কেবল অভিযোগ নয়, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য এদিন মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনাও করেন তিনি। তাঁর মতে, বহু মানুষ যদি ভোটদান থেকে বঞ্চিত হন, তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নির্বাচনী ময়দানে নামার আগে এই ‘ভুল’ যে তিনি সহজভাবে নিচ্ছেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিদায়ী মন্ত্রী। প্রশাসনের কাছে তাঁর দাবি,তালিকায় নাম না থাকার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা দ্রুত খতিয়ে দেখতে হবে।প্রকৃত ভোটারদের অধিকার যাতে সুরক্ষিত থাকে, তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে অবাধ ও স্বচ্ছ ভোটদানের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোটের ঠিক আগে ভোটার তালিকা নিয়ে প্রদীপ মজুমদারের এই অভিযোগ কমিশনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল হতে পারে। তবে মন্ত্রীর দাবি, তিনি কেবল সাধারণ মানুষের হকের কথা বলছেন। মন্দির চত্বরে দাঁড়িয়েই তিনি হুঁশিয়ারি দেন, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে কোনওরকম ছেলেখেলা সহ্য করা হবে না।
দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রে লড়াই এবার হাড্ডাহাড্ডি। তার আগে প্রদীপবাবুর এই ‘মন্দির অভিযান’ এবং ‘কমিশন-বিরাগ’ শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন করে জলঘোলা শুরু করেছে। এখন দেখার, কমিশনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না।