নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা:শেষ হলো ছাব্বিশের মহাযুদ্ধের শেষ দফার রণডঙ্কা। বুধবার বিকেল গড়াতেই বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রের ওপর দিয়ে বয়ে গেল এক তীব্র স্নায়ুচাপের ঢেউ। দুই দফার দীর্ঘ লড়াইয়ের শেষে ইভিএম বন্দি হয়েছে ২৯৪টি আসনের ভাগ্য। আর ভোটগ্রহণ শেষ হতেই সামনে আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন সংস্থার বুথ ফেরত সমীক্ষা বা ‘এক্সিট পোল’।
সমীক্ষার ইঙ্গিত: বদলের হাওয়া না কি সবুজ দুর্গ?
একাধিক বুথ ফেরত সমীক্ষায় এবার বাংলায় এক অভাবনীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। যা দেখে কপালে ভাঁজ পড়তে পারে ঘাসফুল শিবিরের। বেশ কিছু সমীক্ষার দাবি—
বিজেপির উত্থান: বিরোধী দল থেকে এবার সরাসরি সরকার গড়ার দোরগোড়ায় পৌঁছে যেতে পারে বিজেপি। গতবার অর্থাৎ ২০২১-এর ৭৭টি আসন থেকে এবার তারা ১৪৮-এর ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে।
তৃণমূলের উদ্বেগ: মমতার ‘উন্নয়ন’ কার্ড কি এবার কাজ করল না? শাসক দল তৃণমূলের জন্য সমীক্ষার পূর্বাভাস বেশ আশঙ্কাজনক। দক্ষিণবঙ্গের যে দুর্গগুলোকে তৃণমূলের ‘নিরাপদ ঘাঁটি’ মনে করা হতো, সেখানেও বড়সড় ফাটল ধরার ইঙ্গিত দিচ্ছে এক্সিট পোল।
এক নজরে ২০২৬-এর নির্বাচনী চালচিত্র
এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দফায়, যা বাংলার ইতিহাসে বেশ ব্যতিক্রমী। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও ছিল রেকর্ড গড়ার মতো।প্রথম দফা ২৩ এপ্রিল মোট আসন ১৫২ ভোটের হার ৯৩.২% (রেকর্ড) ।দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল মোট আসন ১৪২ ভোটার হার ৯০% ।
ম্যাজিক ফিগার ১৪৮: সমীকরণ কার পক্ষে
নবান্ন দখলের লড়াইয়ে যেকোনো দল বা জোটের লক্ষ্য থাকে অন্তত ১৪৮টি আসন। ২০২১ সালে ২১৩টি আসন নিয়ে সরকার গড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এবার ‘এন্টি-ইনকাম্বেন্সি’ বা প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া এবং দুর্নীতির অভিযোগকে হাতিয়ার করে বিজেপি যে বাংলার মসনদে বসার স্বপ্ন দেখছে, সমীক্ষাগুলো তাকেই মান্যতা দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সমীক্ষা বনাম বাস্তবতা: ‘আসল খেলা’ ৪ মে
তবে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এক্সিট পোল মানেই শেষ কথা নয়। এর আগে বহুবার বুথ ফেরত সমীক্ষার রিপোর্ট ইভিএম খোলার পর ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে।”বুথ ফেরত সমীক্ষা কেবলই একটি পূর্বাভাস। বাংলার মানুষের আসল রায় ইভিএম-এ বন্দি রয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে, তা জানতে আমাদের ৪ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।” — এমনটাই মত অধিকাংশ রাজনৈতিক বোদ্ধাদের।
বিকেলের আলো ফুরিয়ে রাত যত বাড়ছে, চায়ের আড্ডা থেকে ড্রয়িং রুম— সর্বত্রই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন বিজেপির ‘পরিবর্তন’ না কি মমতার ‘হ্যাটট্রিক প্লাস’? উত্তর দেবে ৪ মে-র গণনা। ততক্ষণ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষায় গোটা বাংলা।