নিজস্ব সংবাদদাতা, ঘাটাল: বিদ্যাসাগরের জন্মভিটে বীরসিংহকে পর্যটন মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার পাশাপাশি ঘাটালের দীর্ঘদিনের জলযন্ত্রণা মেটাতে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পশ্চিম মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই উন্নয়ন, পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিল্প নিয়ে একগুচ্ছ প্রকল্পের কথা জানান তিনি। পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মবার্ষিকীতে পশ্চিম মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘাটালের উন্নয়ন, শিল্পায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। বীরসিংহ গ্রামকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনায় নৈশযাপন এবং স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হবে এবং ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি পার্ক নির্মিত হবে। স্থানীয় বিদ্যালয়ের জন্য একটি নতুন SCR বিল্ডিং তৈরির কথাও জানান তিনি। দীর্ঘদিনের জলসমস্যা সমাধানে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য ১,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে, যার অর্ধেক অর্থ দেবে কেন্দ্র এবং বাকি অর্ধেক রাজ্য। আগামী বছরের জুনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্দশার জন্য তিনি পূর্বতন সরকারের ভুল নীতিকে দায়ী করেন এবং পাঠাগারগুলিতে বিদ্যাসাগরের বই সংগ্রহ করার আহ্বান জানান। তিনি জানান, রিলায়েন্স শিল্প গোষ্ঠী রাজ্যে বড় বিনিয়োগ করতে চলেছে এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে।"
বীরসিংহকে দেশের মানুষের কাছে আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র করে তুলতে চান বলে জানান শুভেন্দু। পর্যটকদের নৈশযাপনের জন্য থাকার ব্যবস্থা, গবেষক ও পড়ুয়াদের জন্য পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনার কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি গ্রামে স্ট্রিট লাইট বসানো, ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পার্কের সংস্কার এবং বীরসিংহ ভগবতী বিদ্যালয়ে নতুন SCR ভবন তৈরির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় ঘোষণা ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান ঘিরে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের জন্য ১,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। কেন্দ্র ও রাজ্য—দু’পক্ষই ৫০ শতাংশ করে অর্থ দেবে বলে জানান তিনি। বর্ষা শুরুর আগেই, আগামী বছরের জুনের মধ্যে কাজের বড় অংশ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রাও বেঁধে দিয়েছেন তিনি। ঘাটালের বারবারের বন্যা ও জলমগ্নতার সমস্যা মোকাবিলাই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। "
শিক্ষা নিয়েও এ দিন সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের ‘ভুল নীতি’র কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে রাজ্যের অবস্থান পিছিয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের পাঠাগারগুলিতে নিম্নমানের বা বিভ্রান্তিকর বই না কিনে বিদ্যাসাগরের রচনা সংগ্রহ করার পরামর্শ দেন তিনি।
শিল্পায়নের প্রসঙ্গে শুভেন্দুর দাবি, রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ আসছে। রিলায়েন্স গোষ্ঠী বড় বিনিয়োগ করতে চলেছে বলেও জানান তিনি। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা—দুই ক্ষেত্রেই পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ এগোচ্ছে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
বীরসিংহে এ দিনের অনুষ্ঠান তাই শুধু বিদ্যাসাগর স্মরণে সীমাবদ্ধ থাকল না। ঘাটালের জলসমস্যা থেকে পর্যটন, শিক্ষা থেকে শিল্প—একাধিক ক্ষেত্রে সরকারের আগামী দিনের পরিকল্পনার রূপরেখাও তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী।
