পশ্চিমবঙ্গে ফর্ম ৭ জমা নিয়ে রক্তাক্ত বিক্ষোভ: আগুন-ধোঁয়ায় ঢাকা গেল ভোটার তালিকা সংশোধন
সঙ্কেত ডেস্ক:নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ছিল ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা। প্রথমে ঘোষিত ১৫ জানুয়ারির সময়সীমা জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়া অশান্তির কারণে কমিশন বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু শেষ দিনেও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) মধ্যে সম্মুখ সমর, ফর্ম পোড়ানো, গাড়ি ভাঙচুর—এসব দৃশ্য রাজ্যের রাজনীতিকে সপ্তম আকাশে তুলে দিয়েছে।
খসড়া ভোটার তালিকায় মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য ফর্ম ৭ পূরণ করে জমা দিতে হয়। কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যেকোনো ভোটার এই ফর্ম জমা দিতে পারেন। কিন্তু বিজেপি কর্মীরা যখন জেলা নির্বাচন অফিসে ফর্ম নিয়ে যান, তখন টিএমসির বাহিনী হাজির হয়ে বাধা দেয়। টিএমসির অভিযোগ, বিজেপি এই ফর্ম দিয়ে হাজার হাজার বৈধ ভোটারের নাম কেটে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে। ফলে দিনভর রাজ্যের একাধিক জায়গায় ফর্ম ছিঁড়ে ফেলা, পোড়ানো এবং হাঙ্গামার দৃশ্য দেখা গেছে। শেষ দিনে আসানসোল বিজেপি ও টিএমসির কার্যকর্তাদের মধ্যে বিবাদে বান্ডিল বান্ডিল ফর্ম আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। গাড়ির কাঁচ ভাঙা হয়, পথে পথে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।কল্যাণীতে টিএমসি নেত্রী অম্বিকা রায়ের গাড়িকে ঘিরে প্রচণ্ড বিক্ষোভ। মহকুমা অফিসের বাইরে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে, পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়ার ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার চেষ্টায় টিএমসির একাংশ বিক্ষোভ করে। স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা বাড়ে।হুগলিতে টিএমসি নেতৃত্বের তুলকালাম এর ফর্ম জমা প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।এক বিক্ষোভকারী টিএমসি কর্মী বলেন, “আমরা আটকেছি। ওরা ভয়ে পালিয়ে গেছে। এভাবে হাজার হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি।”
উল্লেখ্য সোমবার সন্ধ্যায় রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব কমিশনের দ্বারস্থ হয়। বিজেপির পক্ষে প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সঞ্জয় সিং এবং তাপস রায়ের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, “ফর্ম ৭ জমা ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। বিজেপি কর্মীরা ফর্ম জমা দিতেই টিএমসির গুণ্ডারা খবর পেয়ে মারধর ও হেনস্থা শুরু করে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি সত্ত্বেও ইআরওরা ফর্ম নিচ্ছে না। দাবি-আপত্তি নিশ্চিত করতে সময়সীমা বাড়ানো হোক।”সম্প্রতি এক সভায় টিএমসির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “কেউ বাড়াবাড়ি করলে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে একটু ডিজে বাজিয়ে দেবেন।” সোমবারের আগুন-বিক্ষোভের পর প্রশ্ন উঠেছে, এই নির্দেশ কি টিএমসি কর্মীরা মেনে চলছে? নাকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে?
এই ঘটনা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। বিজেপির দাবি যদি কমিশন মেনে নেয়, তাহলে নতুন সময়সীমায় আরও উত্তেজনা দেখা দিতে পারে। রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে, যা আসন্ন নির্বাচনের পটভূমিতে গুরুত্বপূর্ণ।
