নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা। ভোটের বাকি আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে যখন ফুটছে গোটা রাজ্য, ঠিক তখনই শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ আরও মজবুত করল কমিশন। সোমবার বিকেলে দুর্গাপুর স্টেশন বাজার সংলগ্ন এলাকায় আধা সেনার চোখধাঁধানো রুট মার্চে কার্যত স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হল— অশান্তি রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিই নিয়েছে প্রশাসন।
এ দিন বিকেলে স্টেশন বাজার এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা যখন আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও বিশালাকার সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামেন, তখন থমকে যায় জনজীবন। গলি থেকে রাজপথ— সর্বত্রই টহল দেয় বাহিনী। উদ্দেশ্য একটাই, সাধারণ মানুষের মন থেকে ভীতি দূর করে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের পরিবেশ তৈরি করা।
নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশে রাজ্যের প্রতিটি সংবেদনশীল এলাকায় এ ভাবেই বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। স্টেশন বাজার এলাকাটি যথেষ্ট জনবহুল হওয়ায় সেখানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ দিনের রুট মার্চে দেখা গেল কয়েকুি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য,সাঁজোয়া গাড়ির ব্যবহার:** কেবল পায়ে হেঁটে নয়, ড্রাগন ও বিশেষ নজরদারি গাড়িতে চেপে দাপিয়ে বেড়ালেন জওয়ানরা। বাহিনীর এই মেজাজি টহল দেখতে রাস্তার দু’ধারে সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়। মানুষের চোখেমুখে একদিকে যেমন স্বস্তি দেখা গেছে, অন্য দিকে চাপা কৌতূহলও ছিল স্পষ্ট। বাজারের অলিগলি থেকে শুরু করে সংলগ্ন বসতি এলাকা— সব জায়গাতেই নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পৌঁছে যায় বাহিনী। “শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। রুট মার্চের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের আশ্বস্ত করাই আমাদের লক্ষ্য।” — প্রশাসনের এক পদস্থ আধিকারিক।
উল্লেখ্য, প্রথম দফার ভোটের আগে শিল্পাঞ্চলের এই সক্রিয়তা রাজনৈতিকভাবেও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কোনওরকম প্ররোচনা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে নাকা চেকিং এবং রুট মার্চের এই ধারবাহিকতা ভোটের দিন পর্যন্ত জারি থাকবে বলেই কমিশন সূত্রে খবর। আপাতত আধা সেনার বুটের শব্দ আর সাঁজোয়া গাড়ির গর্জনে দুর্গাপুরের বাতাসে এখন শুধুই ভোটের গন্ধ।