সংসদ চত্বরে রাহুল–বিট্টু বাকযুদ্ধ: ‘বিশ্বাসঘাতক বন্ধু’ বনাম ‘দেশের শত্রু’, ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক

সঙ্কেত ডেস্ক: বুধবার সকালে সংসদ চত্বরে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টুর মধ্যে তীব্র কথার লড়াইয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজনীতি। দিনের অধিবেশন শুরুর আগে মকরদ্বারের সামনে বিরোধী সাংসদদের প্রতিবাদ চলাকালীন এই ঘটনাটি ঘটে।প্রতিবাদের মাঝেই কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী তথা তিনবারের সাংসদ রবনীত সিং বিট্টু পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় রাহুল গান্ধী তাঁকে লক্ষ্য করে বলেন, “এই যে একজন বিশ্বাসঘাতক যাচ্ছে—মুখটা দেখুন।” এরপর হাত বাড়িয়ে রাহুল বলেন, “হ্যালো ব্রাদার। আমার বিশ্বাসঘাতক বন্ধু। চিন্তা করবেন না, আপনি আবার কংগ্রেসে ফিরে আসবেন।”তবে রাহুলের হাত মেলানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিট্টু পালটা বলেন, “দেশ কে দুশমন (দেশের শত্রু)।” পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, প্রতিবাদরত সাংসদরা এমনভাবে বসে আছেন যেন “যুদ্ধ জিতে এসেছেন।”

উল্লেখ্য, প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা রবনীত সিং বিট্টু ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী।

ঘটনার পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিট্টু গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি ১৯৮৪ সালের অপারেশন ব্লু স্টার এবং শিখ-বিরোধী দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে বলেন,“যখন তিনি হাত বাড়ালেন, আমি বলেছি—আপনারা বিশ্বাসঘাতক, প্রতিদিন সেনা ও দেশের বিরুদ্ধে কথা বলেন। একজন শিখ কখনও গান্ধী পরিবারের উত্তরসূরি, শিখদের হত্যাকারীর সঙ্গে হাত মেলাতে পারে না।”বিট্টু আরও দাবি করেন, রাহুল গান্ধী তাঁকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর কথায়, “আমি জানি না আজ উনি কোনও মাদক নিয়েছিলেন কি না। তিনি আমাকে টার্গেট করেছেন এবং আক্রমণ করেছেন।” পাশাপাশি তিনি জানান, রাহুলের আচরণ সংসদের বিশেষাধিকার লঙ্ঘন কি না, তা নিয়ে দলীয় সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানান দিল্লির মন্ত্রী ও শিখ বিধায়ক মঞ্জিন্দর সিং সিরসা। তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধী ও গান্ধী পরিবারই বিশ্বাসঘাতক। শিখ ও সরদাররা কখনও বিশ্বাসঘাতক হতে পারেন না। এই মন্তব্য প্রমাণ করে কংগ্রেসের মানসিকতায় কোনও পরিবর্তন আসেনি।” পাশাপাশি কংগ্রেস সদর দফতরের বাইরেও শিখ সম্প্রদায়ের তরফে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়।তবে কংগ্রেস রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। কংগ্রেস সাংসদ অমরিন্দর রাজা ওয়ারিং বলেন, “যিনি দল ছেড়ে গিয়েছেন, তাঁর জন্য ‘বিশ্বাসঘাতক’ শব্দ ছাড়া আর কী ব্যবহার করা যায়? বিরোধী দলনেতাকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না—এই পরিস্থিতিতে আমরা আর কীই বা বলব?”

উল্লেখ্য, এদিন লোকসভায় আটজন বিরোধী সাংসদকে বাজেট অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। চেয়ার লক্ষ্য করে কাগজ ছোড়াসহ সংসদের নিয়ম ভাঙার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেয় স্পিকার। সাসপেন্ড হওয়া সাংসদদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেসের হিবি ইডেন, অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং, মানিকম টাগোর, গুরজিৎ সিং আউলখা, প্রশান্ত যাদোরাও পাডোলে, চামালা কিরণ কুমার রেড্ডি, ডিন কুরিয়াকোস এবং সিপিএমের এস ভেঙ্কটেশন।

এই সাসপেনশনের প্রতিবাদেই সংসদ চত্বরে বিক্ষোভে বসেছিলেন বিরোধী সাংসদরা—আর সেই প্রতিবাদের মধ্যেই রাহুল–বিট্টু বাকযুদ্ধ নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *