‘সিঙ্গুর থেকেই জয় শুরু, একচুল জমি ছাড়ব না’, কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি মমতার

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিঙ্গুর: সেই পরিচিত মেজাজ, সেই চেনা মাটি। বুধবার সিঙ্গুরের সভা থেকে ফের একবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রণংদেহি রূপে ধরা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুর আন্দোলনের ২৬ দিনের অনশনের স্মৃতি উসকে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাংলা ও বাঙালির স্বার্থ রক্ষায় তিনি একচুল জমিও ছাড়বেন না।এদিন ভাষণের শুরুতেই সিঙ্গুরের আবেগ ছুঁয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সিঙ্গুর আমার প্রিয় জায়গা। এই মাটিই আমাকে জয় এনে দিয়েছিল। কথা দিয়েছিলাম কৃষকের জমি ফিরিয়ে দেব, দিয়েছি।” কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে এদিন তিনি বড় ঘোষণা করেন। সিঙ্গুরে ৮ একর জমিতে গড়ে উঠবে একটি ‘এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’, যেখানে কৃষি ও শিল্পের সহাবস্থান ঘটবে বলে জানান তিনি।
এদিনের সভায় মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় ছিল কেন্দ্রের ‘এসআইআর’ (SIR) নীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “SIR-এর নামে আসলে এনআরসি-র চক্রান্ত করা হচ্ছে। এই চক্রান্তের বলি হয়েছেন ১৪০ জন মানুষ।” মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, কেন্দ্রকে এর জবাবদিহি করতে হবে, প্রয়োজনে তিনি আদালত পর্যন্ত যাবেন। বিজেপিকে বিঁধে তাঁর কটাক্ষ, “বিজেপি বলছে ঝুট, করছে লুট।” এমনকি বিবাহিত মহিলাদের পদবী পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে এনআরসি-র জটিলতা তৈরির চেষ্টার বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি।
কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দিল্লির সাহায্যের আশা ছেড়ে রাজ্য সরকার নিজেই ‘ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান’-এর কাজ শুরু করেছে। তাঁর কথায়, ‘ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান’ মোট বরাদ্দ: ১,৫০০ কোটি টাকা।৫০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে এবং ৩০০ কোটির কাজ শেষ।”আমি জুমলা করি না, কথা দিলে কথা রাখি।”
একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে এদিন নিজের দিল্লি সফর স্থগিত করেন মুখ্যমন্ত্রী। মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজনকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরির ঘোষণা করেন তিনি।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সিঙ্গুরের সভা শেষ করে সরাসরি দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল তাঁর, কিন্তু জাতীয় রাজনীতির এই দুঃসংবাদে সফরসূচি বদলে ফেলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।সফর পিছিয়ে দিলেও তিনি স্পষ্ট জানান, “আজ যাইনি ঠিকই, কিন্তু কাল বা পরশু আমি দিল্লি যাবই। মানুষের মৃত্যুর জবাব দিতে হবে।””আমায় জেলে ভরেও লাভ নেই। আমি জেলে গেলে বাংলার মা-বোনেরা তার জবাব দেবে। মানবিক হন, দানবিক হবেন না।”
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সাফ জানান, গণতন্ত্রে স্বৈরাচারের কোনো জায়গা নেই। সব মিলিয়ে সিঙ্গুরের মাটি থেকে লোকসভা ভোটের আগে ফের একবার আন্দোলনের মেজাজে নিজেকে মেলে ধরলেন তৃণমূল নেত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *