হাইকোর্টে ইডি: মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘নথি ছিনতাই’ ও তদন্তে বাধার বিস্ফোরক অভিযোগ
সঙ্কেত ডেস্ক:: সল্টলেকের আইপ্যাক (I-PAC) অফিসে ইডির তল্লাশিকে কেন্দ্র করে সংঘাত এবার আদালত পর্যন্ত গড়াল। নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা দেওয়া এবং নথি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলো এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আদালত মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে এবং শুক্রবারই এর শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
ইডির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, কয়লা পাচার মামলার তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। এর মধ্যে দুটি জায়গায় ‘সাংবিধানিক পদে থাকা’ ব্যক্তি এবং তাঁর অনুগামীরা বেআইনিভাবে ঢুকে পড়েন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিনিয়ে নিয়ে যান। কেন্দ্রীয় সংস্থার আরো অভিযোগ, নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া মেনে তল্লাশি চললেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তদন্ত প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানো হয়েছে।
অন্যদিকে, আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে একটি সবুজ ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসার সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ ইডি তৃণমূলের হার্ডডিস্ক, প্রার্থীতালিকা এবং নির্বাচনী কৌশল হাতিয়ে নিতে চাইছে। তিনি অমিত শাহকে ‘দেশের সবচেয়ে কদর্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ বলে অভিহিত করে প্রশ্ন তোলেন, “আমি যদি বিজেপির পার্টি অফিসে অভিযান চালাই, তবে তার ফল কী হবে?”
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী যখন নথি নিয়ে বেরোচ্ছিলেন, তখন ইডি আধিকারিকরা কেন বাধা দেননি— তা নিয়ে ইডির তরফে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি। তবে আইপ্যাকের মতো একটি বেসরকারি সংস্থাকে মুখ্যমন্ত্রী কেন ‘নিজের আইটি অফিস’ বলে দাবি করলেন এবং সরাসরি ইডি অভিযানের মাঝখানে ঢুকে পড়লেন, তা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।
