২৬ এর মহাযুদ্ধের আগে বড় রদবদল বঙ্গ বিজেপিতে: সাধারণ সম্পাদক হলেন সৌমিত্র খাঁ

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতে এবং সংগঠনকে মজবুত করতে ঢেলে সাজানো হলো বঙ্গ বিজেপির রাজ্য কমিটিতে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই বুধবার বিজেপির নতুন রাজ্য কমিটির তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের রদবদলে সবথেকে বড় চমক বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-র পদোন্নতি।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে সাংগঠনিক স্তরে বড়সড় রদবদল ঘটাল ভারতীয় জনতা পার্টি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। একদিকে যেমন অভিজ্ঞদের নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তেমনই তরুণ ও লড়াকু মুখদের সামনের সারিতে নিয়ে আসা হয়েছে।
রাজ্যে সাধারণ সম্পাদক পদে বড় পরিবর্তন,সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার অনুমোদিত এই তালিকায় রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক পদে তিনটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিষ্ণুপুরের সাংসদ তথা দলের পরিচিত মুখ সৌমিত্র খাঁ-কে এবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশপাশি সৌমিত্র খাঁ ছাড়াও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন বাপি গোস্বামী এবং শশী অগ্নিহোত্রী।এর আগে সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা বেশ কয়েকজন নেতাকে সহ-সভাপতি পদে পাঠানো হয়েছে।
দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে অগ্নিমিত্রা পাল, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং দীপক বর্মনকে। তাঁদের তিনজনেই বর্তমান রাজ্য কমিটিতে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে স্বপদে বহাল থাকছেন জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং লকেট চট্টোপাধ্যায়।
একই সঙ্গে মোর্চা ও সংগঠনের বিভিন্ন শাখা সংগঠন বা মোর্চাগুলোর নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও একঝাঁক নতুন নাম উঠে এসেছে যুব মোর্চার সভাপতি হিসেবে থাকছেন ইন্দ্রনীল খাঁ।
মহিলা মোর্চার নেতৃত্বের ভার তুলে দেওয়া হয়েছে ফাল্গুনী পাত্রের হাতে।একই সঙ্গে সংখ্যালঘু মোর্চাআর এই পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আলী হোসেনকে।একই সঙ্গে কিষান মোর্চায় রাজীব ভৌমিক, ওবিসি মোর্চায় শুভেন্দু সরকার, এসসি মোর্চায় সুজিত বিশ্বাস এবং এসটি মোর্চায় খগেন মুর্মুকে নিযুক্ত করা হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করতেই এই ‘সার্জারি’ করা হয়েছে। বিশেষ করে সৌমিত্র খাঁ-র মতো বাগ্মী নেতাকে সাধারণ সম্পাদক করে দলের নীচুতলার কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্য দিকে, অগ্নিমিত্রা পাল বা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের সহ-সভাপতি করে তাঁদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার সুবিধাও নিতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *