নিজস্ব প্রতিবেদন, ব্যারাকপুর: রাজনীতির ময়দানে তিনি পোড়খাওয়া খেলোয়াড়। কিন্তু সোমবার সাতসকালে ব্যারাকপুরের জিলিপি ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কণ্ঠে শোনা গেল এক ভিন্ন সুর। স্রেফ রাজনৈতিক আক্রমণ নয়, বরং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আবেগ মিশিয়ে বঙ্গভোটের শেষবেলায় বড়সড় এক ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ করে দিলেন তিনি। মোদীর স্পষ্ট ঘোষণা, ‘‘যা দেখলাম, ৪ মের পরে বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে এই রাজ্যে আমাকে আসতেই হবে।’’
ভোটের প্রচার যখন শেষ লগ্নে, তখন সিপাই বিদ্রোহের স্মৃতিবিজড়িত এই শিল্পাঞ্চলে দাঁড়িয়ে মঙ্গল পাণ্ডের আবেগে শান দিলেন প্রধানমন্ত্রী। জগদ্দলের জনসভা থেকে তাঁর দাবি, এই নির্বাচনে তিনি ক্লান্ত হননি, বরং বাংলার মানুষের উৎসাহ তাঁকে শক্তি জুগিয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘‘এই গরমেও ক্লান্তি আসছে না। রোড শো আমার কাছে স্রেফ রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এ যেন এক তীর্থযাত্রা।’’
এ দিন ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের সাত কেন্দ্রের প্রার্থীদের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন মোদী। তবে আক্রমণের চেয়েও এদিন তাঁর কথায় বেশি প্রাধান্য পেয়েছে ক্ষমতায় আসার পরবর্তী পরিকল্পনা। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, এবার বাংলায় বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হবেন। কেন্দ্র ও রাজ্য মিলে উন্নয়নের কাজ ত্বরান্বিত করবে। সরকারি শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ এবং সপ্তম পে কমিশন চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। কলকাতা সংলগ্ন এলাকায় ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ হাব তৈরি এবং সমাজবিরোধীদের উপদ্রব কমানোর আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
ভোটের অঙ্ক মেলাতে এ দিন এক ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সমীকরণ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মনে করিয়ে দেন, ভারতের সমৃদ্ধির মূলে ছিল তিনটি স্তম্ভ— অঙ্গ (বিহার), বঙ্গ (পশ্চিমবঙ্গ) ও কলিঙ্গ (ওড়িশা)। মোদীর দাবি, ‘‘ভারতের ভাগ্যোদয় পূর্ব ভারত ছাড়া সম্ভব নয়। বিহার ও ওড়িশায় পদ্ম ফুটেছে, এবার বাংলার পালা।বাংলার সেবা করা আমার ভাগ্যে লেখা রয়েছে। এই দায়িত্ব থেকে আমি পিছু হঠব না।’’ এ দিন সভা শেষে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মঙ্গল পাণ্ডে এবং নৈহাটির বড়মার ছবি তুলে দেওয়া হয়। সেই উপহার গ্রহণ করে আবেগপ্রবণ মোদী জানান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অসম্পূর্ণ স্বপ্ন— বাংলার সমৃদ্ধি এবং শরণার্থী সমস্যার সমাধান বিজেপিই করবে।
আগামী বুধবার রাজ্যের শেষ দফার হাইভোল্টেজ ভোট। ১৪২টি আসনে লড়াইয়ের আগে মোদীর এই ‘শপথগ্রহণে আসার’ বার্তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা উসকে দিল। এখন দেখার, ৪ মে প্রধানমন্ত্রীর এই আত্মবিশ্বাস বাস্তবের মুখ দেখে কি না।