মেধার স্বীকৃতি ও সাংস্কৃতিক বর্ণচ্ছটায় উজ্জ্বল ডিপিএস দুর্গাপুরের ‘রেভারেন্স’
নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: শুধু পাঠ্যবইয়ের গণ্ডিতে আবদ্ধ নম্বর বা মেডেলই যে শিক্ষার শেষ কথা নয়, শনিবার তা আরও এক বার প্রমাণ করল দিল্লি পাবলিক স্কুল (ডিপিএস), দুর্গাপুর। শহরের ঐতিহ্যবাহী ‘সৃজনী’ প্রেক্ষাগৃহে সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো বিদ্যালয়ের একাদশ বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ‘রেভারেন্স’। শিক্ষাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি খেলাধুলো, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতায় কৃতি পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হলো বিশেষ সম্মান।
মঙ্গলদীপ প্রজ্জ্বলন ও বিদ্যালয়ের সঙ্গীত দলের সুরের মূর্ছনায় সূচনা হয় এ দিনের আয়োজনের। বিশেষ আকর্ষণ ছিল একটি প্রাণবন্ত ‘ফিউশন’ সঙ্গীত পরিবেশনা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের (আড্ডা) সিইও তথা আইএএস আধিকারিক বিবেক কুমার। তিনি পড়ুয়াদের সুশৃঙ্খল উপস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও নাগরিক দায়িত্ববোধকে সম্বল করে এগিয়ে চলার বার্তা দেন। সম্মানীয় অতিথি, প্রাক্তন ‘মিস আয়ারল্যান্ড’ তথা অভিনেত্রী আলেকজান্দ্রা টেলর তাঁর কর্মজীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ছাত্রছাত্রীদের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার আহ্বান জানান।
পড়ুয়াদের উদ্দেশে ওম দয়াল এডুকেশনাল অ্যান্ড রিসার্চ সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা বিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চেয়ারম্যান ড. সঞ্জীব আগরওয়াল বলেন, “সাফল্য কোনও চূড়ান্ত গন্তব্য নয়, এটি নিরন্তর শেখা ও আত্মবিকাশের একটি যাত্রা।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সোসাইটির সম্পাদক সাগর আগরওয়াল শিক্ষার্থীদের সবসময় জানার আগ্রহ ও কৌতূহল বাঁচিয়ে রাখার পরামর্শ দেন।
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ উমেশ চন্দ জয়সওয়াল তাঁর স্বাগত ভাষণে উল্লেখ করেন, পুরস্কার আসলে দীর্ঘ অধ্যবসায় ও অনুশাসনের ফলশ্রুতি। এই জটিল আধুনিক পৃথিবীতে পড়ুয়ারা যেন দৃঢ় চরিত্র নিয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে, সেই মূল্যবোধ গড়ে তোলাই বিদ্যালয়ের লক্ষ্য।
এ দিন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয় বিদ্যালয়ের বার্ষিক মুখপত্র ‘শেডস’-এর নবতম সংখ্যাটি। মূল পুরস্কার বিতরণী পর্বে সারা বছরের কৃতিত্বের জন্য কৃতি পড়ুয়াদের সংবর্ধিত করা হয়। এর পাশাপাশি মঞ্চস্থ হয় বিশেষ নৃত্যনাট্য ‘নবরস— শেডস অফ সোল’। শাস্ত্রীয় নৃত্যশৈলী ও নান্দনিক অভিব্যক্তির মেলবন্ধনে মানবমনের নয়টি আবেগের প্রকাশ দর্শকাসনে বিপুল প্রশংসা কুড়োয়।
বিদ্যালয়ের ‘হেড গার্ল’ দেবাংশী চক্রবর্তীর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠানটি। মেধা, অধ্যবসায় ও যৌথ উদযাপনের এই মিলনমেলা দুর্গাপুরের শিক্ষামহলে এক অনন্য ছাপ রেখে গেল।