সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার টানটান তল্লাশি, পুলিশ আধিকারিকের বাড়ি থেকে ‘প্রিন্টার’ হাতে বেরোলেন ইডি আধিকারিকরা!

নিজস্ব প্রতিবেদন, দুর্গাপুর: প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার ম্যারাথন তল্লাশি শেষে পুলিশ আধিকারিক মনোরঞ্জন মণ্ডলের আবাসন থেকে বেরিয়ে গেলেন ইডির আধিকারিকরা। বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ঘিরে যে রহস্য দানা বেঁধেছিল, বিকেলের দিকে তা আরও ঘনীভূত হলো। তদন্তকারীরা যখন বেরিয়ে আসছিলেন, তখন তাঁদের হাতে একটি প্রিন্টার দেখা যাওয়ায় তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা।

তল্লাশিতে কী মিলল? রহস্যের কেন্দ্রে ‘প্রিন্টার’

সকাল থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে দুর্গাপুরের ওই পুলিশ আধিকারিকের বাড়িতে নথিপত্র খতিয়ে দেখেন ইডি আধিকারিকরা। সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর বেরোনোর সময় তাঁদের হাতে একটি প্রিন্টার দেখা যায়। প্রশ্ন উঠছে, এই প্রিন্টারটি কি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়ি থেকেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে? যদি তাই হয়, তবে কি ওই প্রিন্টারের মেমোরি চিপে কোনো গোপন লেনদেন বা পাচারের নথির হদিস পেয়েছেন গোয়েন্দারা? যদিও ইডির তরফে সরকারিভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

উধাও পুলিশ আধিকারিক! চাঞ্চল্য তুঙ্গে

এদিনের অভিযানের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো খোদ পুলিশ আধিকারিকের অনুপস্থিতি। সূত্রের খবর, ইডি যখন তাঁর বাড়িতে হানা দেয়, তখন মনোরঞ্জন মণ্ডল সেখানে ছিলেন না। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে জেনেও তিনি কেন সামনে এলেন না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। তিনি কি গ্রেফতারি এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছেন, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ রয়েছে— তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

কেন এই দ্বিতীয় দফার হানা?

গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রথমবার মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই সময় তাঁকে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নোটিস দেওয়া হলেও তিনি তা এড়িয়ে যান। বারংবার সমন পাঠানো সত্ত্বেও হাজিরা না দেওয়াতেই কি এই কড়া পদক্ষেপ?

তদন্তের অভিমুখ: গোয়েন্দা সূত্রে খবর, কয়লা ও বালি পাচারের লভ্যাংশের টাকা প্রভাবশালী মহলে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই পুলিশ আধিকারিক ‘সেতুবন্ধন’-এর কাজ করতেন বলে অভিযোগ।

পরবর্তী ধাপ: এদিনের তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া নথিপত্র এবং ডিজিটাল ডিভাইসগুলি খতিয়ে দেখে ইডি পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার এই তল্লাশি কি কোনো বড়সড় গ্রেফতারির পূর্বাভাস? নাকি উদ্ধার হওয়া ‘প্রিন্টার’ দেবে নতুন কোনো দুর্নীতির হদিস? উত্তর এখন সময়ের অপেক্ষায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *