আসানসোলে কয়লা ‘মাফিয়া’ বিতর্ক: তৃণমূলের ‘ওয়াশিং মেশিন’ কটাক্ষের পাল্টা জিতেন্দ্র তেওয়ারির তোপ

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে কয়লা ও বালি সিন্ডিকেট নিয়ে রাজনৈতিক তরজা এখন চরমে। বিতর্কিত ব্যবসায়ী জয়দেব খাঁ-কে বিজেপির জেলা কমিটিতে ‘স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য’ করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন বাকযুদ্ধ। একদিকে তৃণমূল যখন বিজেপির ‘ওয়াশিং মেশিন’ তত্ত্ব নিয়ে সরব, অন্যদিকে বিজেপিও পাল্টা দুর্নীতির অভিযোগে বিঁধছে তৃণমূল নেতৃত্বকে।

তৃণমূলের অভিযোগ: বিজেপির ‘ওয়াশিং মেশিন’ রাজনীতি
​বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে এক সাংবাদিক বৈঠকে পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়ান। তাঁর বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো হলো:
ওয়াশিং মেশিন তত্ত্ব: তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি একটি ‘ওয়াশিং মেশিন’-এ পরিণত হয়েছে, যেখানে দাগি বা বিতর্কিত ব্যক্তিরা গেলেই ‘পরিষ্কার’ হয়ে বেরিয়ে আসেন। জয়দেব খাঁ-র নিয়োগ এর বড় প্রমাণ।
অমিত শাহকে নিশানা: নরেন্দ্রনাথ বাবু প্রশ্ন তোলেন, যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মথুরাপুরের সভায় মাফিয়া রাজ খতমের ডাক দিয়েছিলেন, তাঁর দলই কীভাবে কুখ্যাত কয়লা মাফিয়াকে পদে বসায়?
তথ্য-প্রমাণ: তিনি একটি ছবি দেখিয়ে দাবি করেন, জয়দেব খাঁ এক সময় অমিত শাহকে পুষ্পস্তবক দিয়ে বরণ করেছিলেন এবং বিজেপির ভিআইপি তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে।
বিজেপির পাল্টা চ্যালেঞ্জ: “আসল মাফিয়া তো নরেন্দ্রনাথ”
​তৃণমূলের এই আক্রমণের জবাবে তিব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি। জয়দেব খাঁ-র পাশে দাঁড়িয়ে তিনি পাল্টা অভিযোগ আনেন:
তৃণমূলের নিজস্ব সিন্ডিকেট: জিতেন্দ্র তেওয়ারির দাবি, নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী— বীর বাহাদুর সিং এবং গৌতম ঘোষ—এখনও শিল্পাঞ্চলে কয়লা ও বালি সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন।
বিস্ফোরক আর্থিক দাবি: তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, বীর বাহাদুর ও গৌতমের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৮ থেকে ৯ কোটি টাকা নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কাছে পৌঁছায়। তিনি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকেই এলাকার ‘সবচেয়ে বড় মাফিয়া’ বলে অভিহিত করেন।
ব্যক্তিগত সম্পর্ক: জিতেন্দ্র দাবি করেন, এক সময় তাঁরা নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানেও আমন্ত্রিত হতেন, যার ছবি তাঁর কাছে আছে।
আইনি প্রশ্ন: জয়দেব খাঁ-র সমর্থনে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ইডি বা সিবিআই-এর কোনো মামলা নেই, আদালতও কোনো সাজা দেয়নি। তাহলে তাঁকে মাফিয়া বলার ভিত্তি কী?
রাজনৈতিক অস্থিরতা
​দুই শিবিরের এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে তৃণমূল যখন বিজেপির ‘স্ববিরোধী’ নীতিকে জনগণের সামনে আনতে চাইছে, অন্যদিকে বিজেপিও তৃণমূলের অন্দরের ‘দুর্নীতি’ তুলে ধরে পাল্টা চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *