দেশের জন্য প্রাণ দিলেন দুর্গাপুরের বীর সন্তান, শোকস্তব্ধ বিদ্যাসাগর পল্লী
নিজস্ব প্রতিবেদক,দুর্গাপুর: জম্মুতে সেনাবাহিনীর মহড়া চলাকালীন এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন দুর্গাপুরের মামড়া বাজার এলাকার বিদ্যাসাগর পল্লীর বাসিন্দা, ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ান অজয় জয়সওয়াল। তাঁর এই অকাল প্রয়াণে গোটা শিল্পাঞ্চল জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার বিবরণসেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, জম্মুতে বন্দুকের গোলা নিক্ষেপের (Firing Exercise) মহড়া চলাকালীন একটি দুর্ঘটনা ঘটে। সেই দুর্ঘটনাবশত আঘাতেই শহীদ হন জওয়ান অজয় জয়সওয়াল। উল্লেখ্য, এই বীর জওয়ান অবিবাহিত ছিলেন। দেশের সেবায় নিয়োজিত এই তরুণ প্রাণের এভাবে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না তাঁর পরিবার ও প্রতিবেশীরা।
উল্লেখ্য ১৯৯৮ সালের ১১ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন অজয় জয়সওয়াল। ২০১৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। মৃত্যুকালে তিনি বাবা সঞ্জয় জয়সওয়াল, মা প্রবীন দেবী জয়সওয়াল এবং ভাই বিজয় জয়সওয়ালকে রেখে গিয়েছেন।
শহীদ জওয়ানের মরদেহ ফেরার প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ব্যবস্থা করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল বিমানে করে তাঁর মরদেহ দুর্গাপুর বিমানবন্দরে (অন্ডাল) আনা হয়। সেখান থেকে দেহটি নিয়ে যাওয়া হয় পানাগড় বায়ুসেনা ঘাঁটিতে। শুক্রবার সকালে পানাগড় থেকে শহীদের মরদেহ তাঁর পৈতৃক ভিটে মামড়া বাজারের বিদ্যাসাগর পল্লীতে পৌঁছালে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
শহীদ অজয় জয়সওয়ালকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর বাসভবনে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুরের বিশিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন:
দুর্গাপুরের মহকুমা শাষক সুমন বিশ্বাস,দুর্গাপুর নগর নিগমের
প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারপার্সন অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়,
বর্ধমান সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান উত্তম মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবী উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, শিপুল সাহা ও রাজেশ কোণার প্রমুখ।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং বীর জওয়ানের আত্মত্যাগকে স্যালুট জানানো হয়েছে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক শোকবার্তায় জানানো হয় “দেশের সুরক্ষায় তাঁর এই আত্মত্যাগ দুর্গাপুরবাসী চিরকাল মনে রাখবে। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
এদিন সমস্ত প্রোটোকল মেনে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে বিরভানপুর শ্মশানঘাটে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও সামরিক সালাম জানানো হবে।দেশের জন্য তাঁর এই আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা চিরদিন স্মরণে রাখবে দুর্গাপুরসহ সমগ্র পূর্ব বর্ধমান জেলা।
