গ্যাসের চরম সংকট! রাজ্যে জারি জরুরি ‘SOP’, গ্রাম ও শহরের জন্য বুকিংয়ের নিয়মে বড় বদল

নিজস্ব প্রতিবেদন: ইরান যুদ্ধের আবহে বিশ্বজুড়ে ঘনিয়ে আসা জ্বালানি সংকটের আঁচ এবার সরাসরি ভারতের রান্নাঘরে। দেশজুড়ে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের অভাব দেখা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে একগুচ্ছ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার। একদিকে যেমন গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমায় বদল আনা হয়েছে, তেমনই রাজ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কন্ট্রোল রুম ও উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে নবান্ন।

বুকিংয়ের নিয়মে আমূল পরিবর্তন
সিলিন্ডারের অপচয় রুখতে এবং মজুতদারি রুখতে কেন্দ্রীয় সরকার গ্যাস বুকিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে:

গ্রামীণ এলাকা: এখন থেকে গ্রামে ৪৫ দিন অন্তর একটি গ্যাস সিলিন্ডার বুক করা যাবে।

শহুরে এলাকা: শহর এলাকায় ২৫ দিন অন্তর গ্যাস বুকিংয়ের সুবিধা বহাল থাকছে।

এক সিলিন্ডার গ্রাহক: যাদের বাড়িতে মাত্র একটি সিলিন্ডার (Single Cylinder Connection) রয়েছে, তাঁদের সরবরাহের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ইন্ডিয়ান অয়েল, এইচপিসিএল ও বিপিসিএল-এর মতো সংস্থাগুলিকে।

নবান্নের তৎপরতা: চালু হল ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন
রাজ্যে রান্নার গ্যাসের জোগান নিশ্চিত করতে এবং কালোবাজারি রুখতে স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন প্রসিডিওর (SOP) জারি করেছে রাজ্য সরকার। সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানে নবান্নে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।

কন্ট্রোল রুম নম্বর: ১০৭০ / ২২১৪৩৫২৬ / ৮৬৯৭৯৮১০৭০

বুকিং সংক্রান্ত সমস্যার হেল্পলাইন: ৪৯৫০৬১০১ / ৩৫০২৬২১৪ / ২৪৮৭৪৪০০

উচ্চপর্যায়ের নজরদারি কমিটি
গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখতে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে থাকছেন,স্কুল শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিপর্যয় মোকাবিলা, খাদ্য ও সরবরাহ এবং শিল্প দপ্তরের প্রিন্সিপাল সচিবরা।রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং এডিজি (আইনশৃঙ্খলা ও এনফোর্সমেন্ট)।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, গৃহস্থের পাশাপাশি স্কুল (মিড-ডে মিল) এবং হাসপাতালে গ্যাস সরবরাহে যাতে কোনোভাবেই টান না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

সংকটের নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও আমদানি নির্ভরতা
ভারত তার মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৮০-৮৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার সিংহভাগ আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। ইরান যুদ্ধের ফলে সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ ভারতের বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইয়ের মতো শহরে ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক সিলিন্ডার না মেলায় হোটেল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহেও কাটছাঁট করছে সরকার। তবে যাদের ই-কেওয়াইসি (e-KYC) সম্পন্ন হয়নি, তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *