অর্পিতা কর্মকার, দুর্গাপুর: দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের এডিডিএ দফতরের সামনে সাড়ম্বরে শুরু হল অন্নপূর্ণা ভান্ডার বা অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলাপের কাজ। শুক্রবার, ২৯ মে সকাল ১০টা নাগাদ দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুইয়ের উদ্যোগে এই বিশেষ ক্যাম্পের সূচনা করা হয়। বিধায়কের দাবি, আগামী ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা ঢুকতে শুরু করবে। সেই সঙ্গেই ১ জুন থেকে মহিলাদের জন্য নিখরচায় বাস পরিষেবা এবং বার্ধক্য ভাতা বৃদ্ধির মতো একগুচ্ছ প্রকল্পের সুবিধা চালু হতে চলেছে বলে তিনি জানান। এ দিন ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক বলেন, রাজ্যের সমস্ত মা বোনেরা যেভাবে লক্ষ্মী ভান্ডারের সুবিধা পেতেন, ঠিক তেমনই ১ তারিখ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে এই অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকাও সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। যাঁদের ডিবিটি লিংক সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে কিংবা অন্য কোনও ব্যাঙ্কের জটিলতা রয়েছে, তাঁরাও এই ফর্ম পূরণ করে জমা দিলে সুবিধা পাবেন। এমনকি রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে, যাঁরা আগে অন্য দলে থাকার কারণে এই ধরনের সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন, তাঁরাও এবার আবেদন করতে পারবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন বিধায়ক। একই সঙ্গে রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির রূপায়ণের প্রসঙ্গ টেনে লক্ষণবাবু বলেন, বাংলায় মোদীজি যে সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী ১ তারিখ থেকেই মহিলারা সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন। পাশাপাশি, যাঁরা এতদিন ১০০০ টাকা করে বার্ধক্য ভাতা পেতেন, এই ১ তারিখের পর থেকে তাঁরা প্রতি মাসে ২০০০ টাকা করে পাবেন। খুব দ্রুত আয়ুষ্মান ভারত কার্ড দেওয়ার কাজও শুরু হয়ে যাবে। **ফর্ম সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় নথি: কী জানাচ্ছে কর্তৃপক্ষ** বিধায়ক জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম ইতিমধ্যেই দুর্গাপুরের সমস্ত ওয়ার্ড ও বুথ স্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পে আসার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সাইবার ক্যাফে থেকেও এই ফর্ম প্রিন্ট আউট করে নিতে পারবেন। ক্যাম্প চত্বরে উপস্থিত আধিকারিকরা আবেদনের পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নথির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন। আবেদনের জন্য আধার কার্ডের জেরক্স, প্যান কার্ডের জেরক্স, ভোটার আইডি কার্ডের জেরক্স, ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের প্রথম পাতার ছবি বা জেরক্স এবং পরিবারের প্রধান সদস্যের আয়ের শংসাপত্র লাগবে। ফর্ম জমা দেওয়ার সময় উপরোক্ত সমস্ত নথির এক কপি করে জেরক্স দিতে হবে এবং আবেদনকারীকে প্রতিটি নথির ওপর নিজের স্বাক্ষর করতে হবে। **৯০ দিনের সময়সীমা, শামিল সব শ্রেণি** প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের মোট ৫টি বোরো এলাকায় বর্তমানে এই কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে দুর্গাপুরের ৪৩টি ওয়ার্ডেরই বোরো ও ওয়ার্ড অফিসগুলিতে যাতে এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়, তার আবেদন জানানো হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যেই লক্ষ্মী ভান্ডারের সুবিধা পাচ্ছিলেন, তাঁরাও আগামী ৩ মাস অর্থাৎ ৯০ দিনের সময়সীমার মধ্যে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি সহ এই ফর্ম ফিলাপ করে জমা দিলে প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, দুর্গাপুরের কোনও দরিদ্র মানুষ যাতে এই সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্যই এই ৯০ দিনের দীর্ঘ সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, দুর্গাপুরের সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে অন্নপূর্ণা যোজনা ঘিরে এই মুহূর্তে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। Share Post Whatsapp Share Post navigation তপ্ত তানসেন: গভীর রাতে ব্লক সভাপতিকে ঘিরে বিজেপি বিক্ষোভ, আদালতে জুতো উঁচিয়ে ‘চোর’ স্লোগান জরুরি নিউরোসার্জারিতে আশঙ্কাজনক বাইক আরোহীর প্রাণ বাঁচালেন IQ সিটির চিকিৎসকরা