নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর:শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে ভোটের উত্তাপ এবার চরমে। একদিকে যখন তৃণমূলের ‘সাপ-লুডু’ প্রচার নজর কাড়ছে, ঠিক তখনই পাল্টা তোপে ময়দান গরম করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ফুলঝোড় মোড়ে বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভা থেকে সরাসরি ‘কালীঘাট’-কে নিশানা করে দুর্নীতির অভিযোগে সুর চড়ালেন তিনি।
মঙ্গলবার দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পশ্চিমের প্রার্থী লক্ষণ ঘড়ুইয়ের সমর্থনে এই সভায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সেখান থেকেই শুভেন্দুর কড়া দাওয়াই— “পার্থ-কেষ্ট তো চুনোপুঁটি, সব খেয়েছে হাওয়াই চটি!”
‘৭৫-২৫’ ফর্মুলার পর্দা ফাঁস!
এদিন শুভেন্দুর নিশানায় ছিল বালি ও কয়লা মাফিয়া রাজ। তিনি অভিযোগ করেন, নদীমাতৃক এই বাংলায় নদীগুলোকেও রেয়াত করছে না ঘাসফুল শিবির। শুভেন্দুর কথায়:“একটা ঘাট যদি বৈধ হয়, তবে চোরেরা আরও একশোটা অবৈধ ঘাট চালাচ্ছে। সারারাত জেসিবি আর পোকলেন দিয়ে নদীর ওপর বীভৎস অত্যাচার চলছে। আর এই দুর্নীতির টাকা ভাগ হচ্ছে ৭৫-২৫ ফর্মুলায়।”বিরোধী দলনেতার দাবি, অবৈধ আয়ের ২৫ শতাংশ থাকছে স্থানীয় তৃণমূল নেতা ও পুলিশের পকেটে। আর বাকি ৭৫ শতাংশ ‘পুলিশি পাহাড়ায়’ সোজা চলে যাচ্ছে কালীঘাটে।
ইডি-র আনাগোনা ও কয়লা কেলেঙ্কারি
দুর্গাপুর, রানিগঞ্জ ও বারাবনিতে বারবার কেন্দ্রীয় সংস্থার হানা নিয়ে রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শুভেন্দু। কয়লা কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে গরু পাচার বা সিন্ডিকেট রাজ— রাজ্যের এমন কোনো অপকর্ম নেই যা হচ্ছে না বলে তিনি তোপ দাগেন। তাঁর প্রশ্ন, “কেন বারবার দুর্গাপুর-বারাবনিতে ইডি আসছে? কারণ হাজার হাজার কোটি টাকার কয়লা চুরি আর প্রকৃতি মায়ের নদীকে শেষ করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে এখানে।”
সাপ-লুডু বনাম কালীঘাট তোপ
একদিকে যখন তৃণমূল তাদের বিশেষ ‘লুডু বোর্ড’ দিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের ‘সাপের মুখে’ বসিয়ে প্রচার চালাচ্ছে, শুভেন্দু তখন সরাসরি ‘হাওয়াই চটি’-র মালিককে কাঠগড়ায় তুলে দুর্নীতির অভিযোগ আনছেন। রাজনীতির কারবারিদের মতে, দুর্গাপুরের মাটিতে এই লড়াই এখন শুধুই ইভিএমের নয়, বরং কার ‘ন্যারেটিভ’ ভোটারদের মনে ধরবে, তারই পরীক্ষা।
প্রচার যে শেষবেলায় এসে আদপে ‘সাপ-লুডু’র খেলাই হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূলের প্রচার যদি ‘উন্নয়নের সিঁড়ি’র কথা বলে, তবে শুভেন্দুর বক্তব্য ‘দুর্নীতির গর্তে’ পড়ার হুঁশিয়ারি। শিল্পনগরীর মানুষ শেষ পর্যন্ত কার ‘চালে’ কুপোকাত হন, উত্তর দেবে ছাব্বিশে রায়।