নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: রাজ্যে বিধানসভা ভোটের রণদামামা বাজার ঠিক মুখে এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের মাত্র দু’দিন আগেও যদি কোনো ‘বাতিল’ ভোটার ট্রাইব্যুনাল থেকে বৈধতার ছাড়পত্র পান, তবে তিনি আসন্ন নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এই রায়ের ফলে পশ্চিমবঙ্গ-সহ সারা দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোট দেওয়ার পথ প্রশস্ত হলো।
সাধারণত, নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনেই ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা স্থির করে দেয় নির্বাচন কমিশন। এর পর আর তালিকায় কোনো নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয় না। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই দীর্ঘকালীন প্রথা ভেঙে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করল সুপ্রিম কোর্ট।
২১ এপ্রিলের মধ্যে সঙ্কেত পেলেই মিলবে ভোট
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের যেসব এলাকায় আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট রয়েছে, সেখানকার বাতিল ভোটাররা যদি ২১ এপ্রিলের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল থেকে সবুজ সঙ্কেত পান, তবে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। একইভাবে দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রেও আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নাম তোলার সময়সীমা রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গ-সহ অন্যান্য রাজ্যে বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছে। শুধুমাত্র আমাদের রাজ্যেই এই সংখ্যা প্রায় ৯১ লক্ষ। তবে এর মধ্যে একটি বড় অংশ ‘বিবেচনাধীন’ (Adjudication) ক্যাটাগরিতে রয়েছে। অর্থাৎ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও প্রমাণপত্র ট্রাইব্যুনালে দেখাতে পারলে এবং ট্রাইব্যুনাল তা গ্রহণ করলে তাঁদের নাম পুনরায় তালিকায় উঠবে।
বিচারের দায়িত্বে ১৯ বিচারপতির প্যানেল
এই বিপুল সংখ্যক বাদ পড়া ভোটারদের আর্জি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির একটি বিশেষ প্যানেল তৈরি করা হয়েছে। এই প্যানেল বর্তমানে আপিল ট্রাইব্যুনালে নথিপত্র খতিয়ে দেখার কাজ চালাচ্ছে। যাঁদের নথি বৈধ বলে প্রমাণিত হচ্ছে, তাঁদের নাম অবিলম্বে ভোটার লিস্টে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক নজরে আদালতের নির্দেশ:
সময়সীমা: ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত নাম তোলা যাবে।
যোগ্যতা: ট্রাইব্যুনাল থেকে বৈধতার শংসাপত্র পেতে হবে।
রাজ্যের প্রভাব: প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণের সুযোগ।
তৎপরতা: দ্রুত শুনানির জন্য ১৯ জন বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চ।
ভোটাধিকার নাগরিকের অন্যতম প্রধান গণতান্ত্রিক অধিকার। নথিপত্রের ত্রুটি বা যান্ত্রিক কারণে বহু প্রকৃত নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার অভিযোগ উঠছিল। নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই ‘লাইফলাইন’ সেইসব বঞ্চিত ভোটারদের কাছে এক বড় স্বস্তি হয়ে এল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই রায়ের ফলে ভোট শতাংশে যেমন প্রভাব পড়বে, তেমনই আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে সাধারণ মানুষ তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাবেন।