নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: দীর্ঘ কয়েক দশকের প্রথা ভেঙে এক অনন্য নজিরের সাক্ষী হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। ২০০১ সালের পর এই প্রথম রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে মাত্র দুই দফায়। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, প্রথম দিনেই রাজ্যের ১৬টি জেলার মোট ১৫২টি আসনে ভাগ্য নির্ধারণ হবে প্রার্থীদের। সাধারণত বাংলায় দফায় দফায় দীর্ঘ সময় ধরে ভোট হওয়ার রেওয়াজ থাকলেও, ২০২৬-এর এই মহারণ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার নিরিখে এক ‘রেকর্ড’ তৈরি করতে চলেছে।
কমিশন ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। ৪ মে জানা যাবে বাংলার মসনদে কে বসছেন। প্রথম দফার ভোটপ্রক্রিয়াকে ঘিরে সাজসাজ রব উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্র।
প্রথম দফায় ১৫২ টি আসনে ভোট ২৩ এপ্রিল,দ্বিতীয় দফা ১৪২ টি আসনে ভোট ২৯ এপ্রিল ,ফলাফল ৪ মে।
প্রথম দফার ভোটে বিশেষ নজর থাকছে উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল এবং রাঢ়বঙ্গের ওপর। একনজরে দেখে নিন কোন কোন এলাকায় ২৩ তারিখ ভোট,উত্তরবঙ্গে কোচবিহার (৯টি), আলিপুরদুয়ার (৫টি), জলপাইগুড়ি (৭টি), কালিম্পং (১টি), দার্জিলিং (৫টি), উত্তর দিনাজপুর (৯টি), দক্ষিণ দিনাজপুর (৬টি) এবং মালদা (১২টি)।
দক্ষিণবঙ্গ ও রাঢ়বঙ্গে মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমের সবকটি আসনে ওই দিনই ভোট হবে।
বাকি সাতটি জেলার ১৪২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে দ্বিতীয় দফায়। প্রশাসনের দাবি, আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা ও সুপরিকল্পিত ছকের কারণেই এত কম দফায় ভোট করানো সম্ভব হচ্ছে। এমনকি, দিনক্ষণ ঘোষণার প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে এবার অভূতপূর্ব রণকৌশল নিয়েছে কমিশন। ভোট চলাকালীন বুথ দখল বা হিংসার খবর পাওয়ামাত্র অকুস্থলে পৌঁছাবে ২,১৯৩টি কুইক রেসপন্স টিম (QRT)। নজরদারিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে প্রতিটি ভ্যানে ক্যামেরা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে দাবি “ভোটদানে কোনো প্রকার বাধা বা বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। অশান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেল ভিত্তিক কিইউআরটি মোতায়েনের পরিসংখ্যানে সবথেকে উপরে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। এক নজরে দেখে নিন স্পর্শকাতর জেলাগুলোর কিইউআরটি চিত্র,মুর্শিদাবাদ (সর্বাধিক)২৮৮ (মুর্শিদাবাদ জেলা ২১৯, জঙ্গিপুর ৬৯)পূর্ব মেদিনীপুর ২৫৩,পশ্চিম মেদিনীপুর ২৪৮,বাঁকুড়া ১৮০,বীরভূম ১৬১,মালদহ ১৫৭,কোচবিহার ১৩৩,আসানসোল-দুর্গাপুর ১১৩ ।পাহাড়ি জেলা কালিম্পংয়ে ১৭টি এবং জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রামে ৬৬টি টিম মোতায়েন থাকছে। কমিশনের এই কড়া পাহারার বেষ্টনী টপকে ভোটাররা কতটা নির্ভয়ে বুথমুখী হন, এখন সেটাই দেখার। লড়াই যখন দুই দফার, তখন প্রথম দফার এই ১৫২টি আসনই যে ক্ষমতার চাবিকাঠি হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই রাজনৈতিক মহলে।