নিপা ভাইরাসে আতঙ্ক বাড়ছে, কাটোয়ার নার্সের অবস্থা আশঙ্কাজনক ভেন্টিলেশনে দুই আক্রান্ত, জোরদার নজরদারি প্রশাসনের
নিজস্ব প্রতিনিধি: নিপা ভাইরাস ঘিরে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে রাজ্যে। কাটোয়ার এক মহিলা নার্সের শরীরে নিপা ভাইরাসের হদিশ মিলতেই প্রশাসনিক মহলে চরম সতর্কতা জারি হয়েছে। বর্তমানে তিনি বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে একই হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে রয়েছেন আরও এক পুরুষ নার্স, যাঁর শরীরেও নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।
চিকিৎসক সূত্রে খবর, মহিলা নার্সের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। তিনি বর্তমানে কোমায় রয়েছেন। অন্যদিকে, পুরুষ নার্সের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তিনিও ভেন্টিলেশনে রয়েছেন, তবে চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে নজরদারি, নমুনা সংগ্রহ এবং বেড প্রস্তুতির জন্য বিশেষ প্রোটোকল তৈরি করেছে। ইতিমধ্যেই বারাসতের ওই বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন রাজ্য ও কেন্দ্রের স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল।
জানা গিয়েছে, আক্রান্ত নার্সের সংস্পর্শে আসা মোট ১৪ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এইমস-এ। পাশাপাশি কাটোয়া ও বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরের পর ওই বেসরকারি হাসপাতালের এক আরএমও (RMO) নিপার মতো উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হন। তিনিও বর্তমানে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ২২ জন স্টাফকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানা যায়, হৃদয়পুর এলাকায় ওই মহিলা নার্স মেসবাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তাঁর বাড়ি কাটোয়ায়। অসুস্থ হওয়ার পর প্রথমে তিনি কাটোয়া হাসপাতালে চিকিৎসা করান। সেই সময় তাঁর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি সহ মোট আটজনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।পরবর্তীতে তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর সংস্পর্শে আসা ৪৮ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
এছাড়াও কলকাতার নাইসেড (NICED) ও স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যভবনের নির্দেশে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।নিপা সংক্রমণের সম্ভাব্য বিস্তার রুখতে প্রশাসনের তরফে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।
