দুর্গাপুরে বিজেপির কার্যকর্তা সম্মেলন: শিল্প, নিরাপত্তা ও প্রশাসন ইস্যুতে তৃণমূলকে তোপ নীতিন নবীনের
নিজস্ব প্রতিনিধি,দুর্গাপুর: দুর্গাপুরের চিত্রালয়ের মাঠে বুধবার অনুষ্ঠিত হল বিজেপির কার্যকর্তা সম্মেলন। উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ রাজ্য নেতৃত্বের একাধিক শীর্ষ নেতা।সম্মেলন মঞ্চ থেকেই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে একাধিক ইস্যুতে আক্রমণ করেন নীতিন নবীন। তিনি বলেন, বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় নারীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমানে রাজ্যে মা-বোনেদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে। বিজেপি সরকার গঠিত হলে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে দাবি করেন তিনি।
দুর্গাপুরের শিল্প পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিজেপি সভাপতি। একসময়ের শিল্পনগরী দুর্গাপুরে বর্তমানে নতুন শিল্প গড়ে উঠছে না বলে অভিযোগ তাঁর। এর ফলে যুব সমাজকে কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হচ্ছে। শিল্প ও কর্মসংস্থানের এই সংকটের জন্য সরাসরি রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেন তিনি।
একই সঙ্গে প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে কড়া বার্তাও দেন নীতিন নবীন। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের শাসকদল প্রশাসনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন,“ডিএম–এসডিওদের বলছি, এটা চারদিনের সরকার। এদের কথায় নাচবেন না। কাঠের পুতুল হবেন না। আপনারা প্রশাসনের লোক, জনতার পাশে দাঁড়ান।”
এসআইআর ইস্যুতেও তৃণমূলকে বিঁধে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অভিযোগ করেন, শাসকদল ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি জটিল করছে। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার এসপি ও ডিএমদের ‘কাঠের পুতুলের মতো’ ব্যবহার করছে এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। নীতিন নবীনের কথায়,“আর বলছেন নির্বাচন কমিশন করছে? কমিশন তো অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে চাইছে। এই বাংলায় যাঁদের জন্ম, তাঁরাই এখানে থাকবেন।”
এদিকে প্রশাসনিক কর্তাদের ঘিরে রাজনৈতিক চাপের প্রসঙ্গ নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডিএম, এসপি ও বিডিওদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেছেন, ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই এবং সরকার তাঁদের পাশে রয়েছে। পাশাপাশি তিনি প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার পরামর্শও দিয়েছেন।
শাসক ও বিরোধী—দু’পক্ষের পরস্পরবিরোধী বার্তায় প্রশাসনিক আধিকারিকরা ক্রমেই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রে চলে আসছেন। ফলে রাজ্যের প্রশাসনিক পরিবেশ আরও চাপের মুখে পড়ছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
