বিয়ের সাজেই শুনানিকেন্দ্রে বর! মুর্শিদাবাদে নাগরিক কর্তব্যে অনন্য নজির যুবকের

সঙ্কেত ডেস্ক: শুনানিকেন্দ্রের বাইরে সাধারণ মানুষের লম্বা লাইন। সবার হাতে নথিপত্র, চোখেমুখে উৎকণ্ঠার ছাপ। এমনই এক পরিস্থিতির মাঝেই আচমকা সকলের নজর কেড়ে নিলেন এক যুবক—পরনে সম্পূর্ণ বরের পোশাক, সঙ্গে বরযাত্রী। শুক্রবার মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের সন্মতিনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এসআইআর (SIR) শুনানিকেন্দ্রে এই দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান উপস্থিত সকলেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্মতিনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা নয়ন শেখের বিয়ে নির্ধারিত ছিল ৩০ জানুয়ারি, শুক্রবার। বাড়িতে তখন বিয়ের প্রস্তুতি তুঙ্গে, সানাই বাজছে, আত্মীয়স্বজনে ভরপুর ঘর। ঠিক সেই সময় নয়নের হাতে এসে পৌঁছয় এসআইআর শুনানির সরকারি নোটিস। নোটিসে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে ওই দিনই শুনানিকেন্দ্রে হাজির হতে হবে।

বিয়ের দিনেই শুনানির নির্দেশ পেয়ে কিছুটা দ্বিধায় পড়লেও শেষ পর্যন্ত নাগরিক দায়িত্বকেই অগ্রাধিকার দেন নয়ন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বরের সাজেই বরযাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে পৌঁছে যান শুনানিকেন্দ্রে।

শুনানির সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আখরুজ্জামান। বরের সাজে যুবককে শুনানিকেন্দ্রে ঢুকতে দেখে প্রথমে তিনিও বিস্মিত হন। গোটা বিষয়টি জানার পর উপস্থিত আধিকারিকরাও অবাক হয়ে যান।

নয়নের দায়িত্ববোধে মুগ্ধ হয়ে প্রতিমন্ত্রী নিজেই উদ্যোগী হয়ে তাঁর শুনানির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। আখরুজ্জামান বলেন,
“নিজের অধিকার রক্ষার জন্য বিয়ের দিন বরের সাজে শুনানিতে আসা একেবারেই ব্যতিক্রমী ঘটনা। নয়ন এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন। যাতে তাঁর বিয়েতে কোনও অসুবিধা না হয়, সে কারণেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনিক তৎপরতায় নয়নের নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ দ্রুত শেষ হয়। সরকারি কাজ সেরে হাসিমুখে আবার বিয়ের গাড়িতে চড়ে বরযাত্রীদের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।

নাগরিক কর্তব্য ও সচেতনতার এমন দৃষ্টান্তে নয়ন শেখকে কুর্নিশ জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *