সংসদে ২০২৬ সালের বাজেট পেশ, তামাকজাত পণ্যে কর বাড়ল, ব্যাটারি শিল্পে বড় স্বস্তি

সঙ্কেত ডেস্ক:রবিবার লোকসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের সাধারণ বাজেট পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। এটি তাঁর টানা নবম বাজেট পেশ। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম রবিবার সংসদে বাজেট পেশ করা হলো, যা নিজেই একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

২০২৬ সালের বাজেটে তামাকজাত পণ্যের উপর কর কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেট অনুযায়ী, বিড়ির দাম তুলনামূলকভাবে কমতে পারে, তবে সিগারেট ও অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকেই এই নতুন কর কাঠামো কার্যকর হয়েছে।

আগে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের উপর ২৮ শতাংশ কর আরোপ করা হতো। নতুন ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। পাশাপাশি সিগারেট, তামাকজাত পণ্য এবং পান-মসালার উপর করের হার ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য ক্ষতিকর পণ্যের ব্যবহার কমানো।

নতুন কর কাঠামো অনুযায়ী, ২০১৭ সালে চালু হওয়া কমপেনসেশন সেস বাতিল করা হয়েছে। তার পরিবর্তে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের উপর অতিরিক্ত এক্সাইজ ডিউটি আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে পান-মসালার ক্ষেত্রে চালু করা হয়েছে স্বাস্থ্য ও জাতীয় নিরাপত্তা সেস। এর ফলে এই পণ্যের দাম আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বাজেটে ব্যাটারি নির্মাণ শিল্পের জন্য বড় স্বস্তির ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। ২০২৬-২৭ সালের বাজেট অনুযায়ী, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামালের উপর মূল শুল্ক হ্রাস করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর ফলে মোবাইল ফোনের ব্যাটারি এবং ইলেকট্রিক ভেহিকেল (EV) ব্যাটারির দাম কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে স্মার্টফোন থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক গাড়ি পর্যন্ত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। শুল্ক হ্রাসের ফলে কাঁচামাল কম খরচে পাওয়া যাবে, উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়বে ব্যাটারির দামে। এর ফলে ভবিষ্যতে স্মার্টফোন ও ইলেকট্রিক গাড়ি সাধারণ মানুষের জন্য আরও সাশ্রয়ী হতে পারে বলে মনে করছে শিল্প মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *