সস্তা হচ্ছে জুতো, পোশাক ও ক্যানসারের ওষুধ; মধ্যবিত্তের পকেটে স্বস্তির ইঙ্গিত নির্মলার

নিজস্ব প্রতিবেদন, নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তৃতীয় মেয়াদের টানা নবম বাজেট পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘উন্নত ভারত’ (Viksit Bharat) গড়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেটে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় একাধিক পণ্যের দামে বড়সড় রদবদল ঘটানো হয়েছে। একদিকে মার্কিন শুল্কের চ্যালেঞ্জ এবং অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝে দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রী একদিকে যেমন দেশীয় শিল্পকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করেছেন, তেমনই সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ কমানোর বার্তাও দিয়েছেন।
সস্তা হচ্ছে যা কিছু: মিলবে বড় স্বস্তি
বাজেট বক্তৃতায় সীতারমন সাধারণ মানুষের নিত্যব্যবহার্য পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানোর একাধিক ঘোষণা করেছেন। এর ফলে যে সব পণ্য সস্তা হতে চলেছে:
পোশাক ও জুতো: চামড়ার জুতা এবং বস্ত্রজাত পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোয় এগুলি সস্তা হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
চিকিৎসা পরিষেবা: সবচেয়ে বড় স্বস্তি মিলেছে স্বাস্থ্য খাতে। ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ১৭টি ওষুধ এবং ডায়াবেটিসের ওষুধের দাম কমছে। এছাড়া আরও ৭টি গুরুতর রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের দাম কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ইলেকট্রনিক্স ও গৃহস্থালি: মাইক্রোওয়েভ ওভেন ও এর যন্ত্রাংশ সস্তা হচ্ছে। সৌরশক্তি–সংক্রান্ত সামগ্রী এবং ইভি (EV) ব্যাটারির দাম কমায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসার বাড়বে।
বিদেশে পড়াশোনা ও ভ্রমণ: বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে কর সংক্রান্ত যে জটিলতা ছিল, তা কিছুটা শিথিল করায় খরচ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যান্য: বায়োগ্যাস মিশ্রিত সিএনজি এবং বিমান নির্মাণের উপকরণও সস্তা হওয়ার তালিকায় রয়েছে।
ব্যয়বহুল হতে পারে যে সব পণ্য
তবে বাজেটে সব খবরই সুখের নয়। দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে কিছু পণ্যের ওপর কর বা শুল্ক বাড়ানো হয়েছে:
খনিজ পদার্থ ও স্ক্র্যাপ: বিভিন্ন খনিজ দ্রব্য ও স্ক্র্যাপের ওপর শুল্ক বাড়ায় এগুলি ব্যয়বহুল হতে পারে।
মদ ও বিলাসবহুল পণ্য: আমদানিকৃত মদ এবং কিছু খনিজ পণ্যের দাম বাড়তে চলেছে।
উন্নত ভারত’ লক্ষ্যমাত্রায় অবিচল কেন্দ্র
২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেটকে ২০৪৭ সালের লক্ষ্যপূরণের একটি অন্যতম ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন অর্থমন্ত্রী। বিশেষ করে চামড়া ও বস্ত্র শিল্পের মতো শ্রম-নিবিড় ক্ষেত্রগুলোতে রপ্তানি সহায়তা এবং কর ছাড় দেওয়ায় কর্মসংস্থান বাড়বে বলে মনে করছে অর্থনৈতিক মহল।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে মধ্যবিত্তের নাগালে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ইলেকট্রনিক্স আনা এবং অন্যদিকে শিল্পের কাঁচামালে ছাড় দেওয়া—সরকারের এই দ্বিমুখী কৌশল ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারকে শক্তিশালী করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *