এসআইআর ঘিরে ইসিআই–রাজ্য সংঘাত তীব্র, সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক হলফনামা নির্বাচন কমিশনের
সঙ্কেত ডেস্ক: বাংলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা হলফনামায় নির্বাচন কমিশন সরাসরি অভিযোগ করেছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এসআইআর প্রক্রিয়ায় নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করছে, যার ফলে নির্বাচন কর্মকর্তারা তাঁদের বিধিবদ্ধ দায়িত্ব পালন করতে মারাত্মক সমস্যার মুখে পড়ছেন।
কমিশনের দাবি, এসআইআর চলাকালীন রাজ্যে হুমকি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতার কারণে নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। একাধিক ক্ষেত্রে নির্বাচন আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইসিআই। হলফনামায় বলা হয়েছে, দেশের অন্যান্য রাজ্যে এসআইআর নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলেও পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক হিংসা, ভয়ভীতি ও বাধার অভিযোগ সামনে এসেছে—যার নেপথ্যে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপই মূল কারণ বলে কমিশনের মত।
নির্বাচন কমিশনের আরও অভিযোগ, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকার ব্যর্থ হয়েছে। উল্টে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে ইসিআই।
ভোটার তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ভোটার তালিকার সত্যতা সন্দেহজনক। চলতি এসআইআর প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই ৫৮ লক্ষেরও বেশি অনুপস্থিত, মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটার চিহ্নিত হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১ কোটি ৫১ লক্ষ নোটিস জারি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা ব্যবহারযোগ্য নয় বলেই কমিশনের অবস্থান।
এসআইআর-এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই কমিশন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। জানা গিয়েছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সম্ভাব্য দিন ধার্য রয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দল এসআইআর প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অংশের ভোটারদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও আইনসম্মত প্রক্রিয়া—ভোটার তালিকার শুদ্ধতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলির সমালোচনা ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে, ফলে বাংলার রাজনৈতিক আবহে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
