নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং তৃণমূল-বিজেপির “বিভাজনের রাজনীতি”র বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। রবিবার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের সৃজনী হলে আয়োজিত পশ্চিম বর্ধমান জেলার বর্ধিত সাংগঠনিক সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি রাজ্য ও কেন্দ্রের শাসকদলের তীব্র সমালোচনা করেন।
মহম্মদ সেলিম অভিযোগ করেন, রাজ্যে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা লাগামছাড়া রূপ নিয়েছে। আরজি কর (অভয়া) কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পুলিশ ও প্রশাসনের একাংশ নিরপেক্ষতা হারিয়ে ‘দলদাসে’ পরিণত হয়েছে। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য সরব হতেন, অথচ এখন তাঁরই পুলিশ শাসকদলের নির্দেশে কাজ করছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, পুলিশ বা কেন্দ্রীয় সংস্থা (CBI-ED) যদি আইন মেনে কাজ না করে, তবে তা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক।
আগামী নির্বাচনের লক্ষ্যে বামফ্রন্ট যে কোমর বেঁধে নামছে, তা এদিন সেলিমের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। তিনি জানান বামফ্রন্ট ও সহযোগী দলগুলোর মধ্যে ৬ ভাগের ৫ ভাগ আসনে রফাসূত্র চূড়ান্ত হয়ে গেছে।বাকি আসনগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে।কংগ্রেসের সাথে জোটের বিষয়ে তিনি বলেন, বামপন্থীরা বিজেপি ও তৃণমূল বিরোধী লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে চায়, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কংগ্রেসের।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে সেলিম বলেন, নাম সংশোধনের আড়ালে রাজ্যে এক ধরনের ‘ব্যাকডোর এনআরসি’ চালানোর চেষ্টা হচ্ছে। বিজেপির রথযাত্রাকে ধর্মীয় মেরুকরণের হাতিয়ার হিসেবে দেগে দিয়ে তিনি জানান, এর বিপরীতে সিপিআইএমের ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’ মানুষের রুটি-রুজি, কর্মসংস্থান, কৃষি ও শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকারের কথা বলছে।
এদিনের বর্ধিত সভায় পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট করে দেন যে, তৃণমূল স্তর থেকে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে একটি শক্তিশালী বিকল্প গড়ে তোলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। দলীয় কর্মীদের সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার আহ্বান জানান তিনি।