’বেশি বাড়াবাড়ি করলে দিল্লির সরকার ফেলে দেব’, ধরনা মঞ্চের দ্বিতীয় দিনে রণংদেহি মমতা
নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবিতে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা আজ দ্বিতীয় দিনে পদার্পণ করল। গতকাল রাতভর ধরনা মঞ্চেই ছিলেন তৃণমূল নেত্রী। আজ সকালে ধরনা মঞ্চ থেকে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান তিনি। বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বেশি বাড়াবাড়ি করলে দিল্লির সরকার ফেলে দেব।”তৃণমূল নেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে না আসা পর্যন্ত এই আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে না। এসআইআর-এর (SIR) প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানকে কেন্দ্র করে সরগরম তিলোত্তমার রাজনীতি। গতকাল থেকে শুরু হওয়া এই ধরনায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং কর্মী-সমর্থকদের ভিড় উপচে পড়ছে।
রাজনৈতিক সৌজন্য বা রণকৌশল— যাই হোক না কেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও প্রমাণ করলেন তিনি রাজপথের লড়াকু নেত্রী। গতকাল রাতভর তিনি ধর্মতলার ধরনা মঞ্চেই কাটান। আজ সকালেও তাঁকে অত্যন্ত চনমনে মেজাজে দেখা যায়। সকালের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ান এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার বার্তা দেন।
মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ধর্মতলা চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা পরিস্থিতি তদারকি করছেন। আজ দিনভর ধরনা মঞ্চে শাসক দলের একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মী-সমর্থকরা ধর্মতলার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন বলে খবর।
অন্যদিকে নির্বাচনের মুখে মুখ্যমন্ত্রীর এই আন্দোলনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একদিকে নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, অন্যদিকে কর্মীদের চাঙ্গা করা— এই দুই লক্ষ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের একবার ‘ধর্মতলা চলো’র ডাক দিয়েছেন।এখন দেখার, নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ কবে রাজ্যে আসে এবং মুখ্যমন্ত্রীর এই আন্দোলনের জল শেষ পর্যন্ত কতদূর গড়ায়।
