শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে ‘অব্যবস্থা’ ও ‘স্বল্প উপস্থিতি’, ক্ষুব্ধ দ্রৌপদী মুর্মু; নিশানায় কি মমতা?

সঙ্কেত ডেস্ক:উত্তরবঙ্গ সফরে এসে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা এবং অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে কার্যত নজিরবিহীনভাবে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। শনিবার শিলিগুড়ির বাগডোগরা সংলগ্ন গোসাইপুরে আদিবাসী সম্প্রদায়ের একটি সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন সভাস্থল নির্বাচন এবং জনসমাগম নিয়ে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি নিয়েও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন তিনি।
প্রাথমিকভাবে অনুষ্ঠানটি শিলিগুড়ির বিধাননগরে হওয়ার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে প্রশাসন সভাস্থল পরিবর্তন করে বাগডোগরার গোসাইপুরে নিয়ে যায়। কিন্তু এদিন দুপুরে সভাস্থলে পৌঁছে রাষ্ট্রপতি দেখেন হাতেগোনা কিছু মানুষ উপস্থিত রয়েছেন। দর্শকাসনের এই শূন্যতা দেখে তিনি দৃশ্যত অসন্তুষ্ট হন।
পরে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান শেষে বিধাননগরের সমাবেশে যোগ দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন “জানি না কেন এখানে (বিধাননগর) সভার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমন এক জায়গায় অনুষ্ঠান রাখা হলো যেখানে মানুষের আসা কঠিন। যদি অনুষ্ঠানটি বিধাননগরেই হতো, তবে অনেক বেশি মানুষ উপস্থিত থাকতে পারতেন।”এদিন রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগও উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্য মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও, বাগডোগরা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন কেবল শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব।
রাজ্য সরকারের এই আচরণ নিয়ে মুখ খুলেছেন রাষ্ট্রপতি নিজে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা টেনে তিনি বলেন“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলারই মেয়ে। কিন্তু হয়তো তিনি রাগ করেছেন বলেই আমাকে স্বাগত জানাতে নিজে আসেননি, কোনো মন্ত্রীকেও পাঠাননি।”

অন্যদিকে রাষ্ট্রপতির এই সরাসরি মন্তব্য কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের আবহে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক এবং প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়ে রাষ্ট্রপতির এই ‘আক্ষেপ’ অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ। কেন খোদ রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে জনসমাগম এত কম হলো এবং কেনই বা প্রোটোকল মানা হলো না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিরোধী শিবির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *