নিজস্ব সংবাদদাতা: উত্তরবঙ্গ এবং পশ্চিমাঞ্চলে প্রথম দফার ভোট মোটের ওপর শান্তিতে মিটলেও, দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণবঙ্গের ছবিটা বদলে গেল আমূল। ভোটের আগের রাত থেকেই জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে শাসকদলের দাপট আর সন্ত্রাসের অভিযোগ। কোথাও বিজেপি এজেন্টের মাথা ফেটেছে, কোথাও আবার স্রেফ পুলিশের ধরপাকড়ের প্রতিবাদে থানা ঘেরাও করেছেন খোদ বিদায়ী বিধায়ক। এক কথায়, দ্বিতীয় দফার ভোট শুরু হতেই উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতির ময়দান।
গত রাতে রাত বাড়তেই মিনাখাঁয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের শাসানোর অভিযোগ উঠেছে। কমিশনের দাবি ছিল, ভোট নির্বিঘ্ন করতে লক্ষাধিক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। কিন্তু সেই বজ্র আঁটুনিই যে ফস্কা গেরো, তা ফের প্রমাণ করল দক্ষিণবঙ্গের ভোটচিত্র। এমনকি ভোটের আগের রাতে সন্ত্রাসের প্রতিবাদে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির বিজেপি প্রার্থী মাধবী মহলদারকে ডিসিআরসি সেন্টারের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতেও দেখা যায়।
অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায় তৃণমূল প্রার্থী আনিসুর রহমানকে লক্ষ্য করে ধাওয়া করে একদল উত্তেজিত জনতা। অভিযোগের তির আইএসএফ-এর দিকে। এলাকায় টাকা বিলি করতে গিয়েছিলেন প্রার্থী, এই অভিযোগ তুলেই তাঁকে ঘিরে চলে বিক্ষোভ। ভাঙড় থেকে শ্যামপুকুর— সর্বত্রই অভিযোগের ভিড়। শ্যামপুকুরে বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে জমায়েত সরাতে শেষমেশ লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে।
ভোট শুরু হতে না হতেই হিংসার খবর আসে নদিয়ার চাপড়া থেকে। ৫৩ নম্বর বুথে বিজেপির এজেন্ট মোশারেফ হোসেনকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। একই ছবি বারাসতেও, যেখানে বিজেপি এজেন্টের হাত থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং ফাইল কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে খবর।
সিঙ্গুর— যেখান থেকে একদা বাম শাসনের পতনের সুর বেজেছিল, সেখানেও চিত্রটা এবার বেশ আলাদা। তৃণমূল প্রার্থী বেচারাম মান্না গভীর রাতে সিঙ্গুর থানা ঘেরাও করেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাতে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি ও কর্মীদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। কোনো অভিযোগ ছাড়াই তাঁদের কেন থানায় বসিয়ে রাখা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলে রাতের অন্ধকারেই থানায় চড়াও হন তিনি।
**এক নজরে দ্বিতীয় দফার বিশেষ কিছু ঘটনা:
বিজেপি প্রার্থীর বিক্ষোভ: কুলতলির বিজেপি প্রার্থী মাধবী মহলদার ডিসিআরসি-তে বিক্ষোভ দেখান।
লাঠিচার্জ: শ্যামপুকুরে বেআইনি জমায়েত হঠাতে পুলিশের লাঠিচার্জ।
প্রার্থীকে ধাওয়া: দেগঙ্গায় টাকা বিলির অভিযোগে আনিসুর রহমানকে আইএসএফ সমর্থকদের ধাওয়া।
কমিশনের কড়া পদক্ষেপ:রাতেই ফলতার জয়েন্ট বিডিও এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার এডিএম-কে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন।
প্রথম দফায় ৯৩ শতাংশের ওপর ভোটদান হলেও, দ্বিতীয় দফার শুরুতেই এই হিংসা ও বাধার পাহাড় টপকে ভোটাররা কতটা বুথমুখী হন, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন। কমিশনারের নজরদারি আর কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি কি শেষমেশ শান্তিতে ভোট সম্পন্ন করতে পারবে? উত্তর মিলবে দিনশেষে।