নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: নীল-সাদা শাড়ি, পরিচিত দ্রুত চলন আর দু’পাশে উপচে পড়া মানুষের ভিড়— শুক্রবার শিল্পশহর দুর্গাপুর সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক উন্মাদনার। বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই নিজের দলের প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে ঝড় তুলতে পথে নামলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রান্তিকা পাঁচমাথা মোড় থেকে ভিড়িঙ্গি পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তা এদিন কার্যত ‘জনসমুদ্রে’ পরিণত হয়েছিল।
উৎসবের মেজাজে রাজনৈতিক মিছিল
সকাল থেকেই শিল্পাঞ্চলের অলিগলি থেকে মিছিল আসতে শুরু করেছিল প্রান্তিকার দিকে। সময় যত গড়িয়েছে, ভিড় পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। কাঁসর, ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি আর ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ ফুল ছিটিয়ে, বরণ ডালা সাজিয়ে স্বাগত জানান তাঁদের ‘দিদি’কে। রাজনৈতিক কর্মসূচির গণ্ডি ছাড়িয়ে এই পদযাত্রা কার্যত এক নাগরিক উৎসবে রূপান্তরিত হয়।
মমতার পাশে তিন ‘সেনাপতি’
এদিন তৃণমূল নেত্রীর পদযাত্রায় তাঁর ঠিক পাশেই দেখা গিয়েছে দুর্গাপুর ও সংলগ্ন এলাকার তিন হেভিওয়েট প্রার্থীকে,প্রদীপ মজুমদার দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের প্রার্থী।
কবি দত্ত দুর্গাপুর পশ্চিমের ঘাসফুল শিবিরের প্রতিনিধি।
নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী পাণ্ডবেশ্বরের লড়াকু প্রার্থী।
প্রার্থীদের নিয়ে খোদ দলনেত্রীর এই মেগা শো কর্মীদের মধ্যে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, শিল্পাঞ্চলের এই তিন কেন্দ্র দখল রাখা ঘাসফুল শিবিরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ, আর সেই লক্ষ্যেই এদিন শক্তি প্রদর্শন করলেন মমতা।
নিরাপত্তার চাদরে শিল্পশহর
মুখ্যমন্ত্রীর এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল পুলিশ প্রশাসন। প্রান্তিকা থেকে ভিড়িঙ্গি পর্যন্ত গোটা যাত্রাপথ সিসিটিভি এবং ড্রোনের নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। রাস্তার মোড়ে মোড়ে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। তবে ভিড়ের চাপে মাঝেমধ্যেই ব্যারিকেড ধরে রাখতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকর্মীদের।
তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা
ভোটের মুখে এই বিশাল জমায়েত বিরোধীদের জন্য বড়সড় বার্তা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। দুর্গাপুরের মাটিতে এই বিপুল জনসমর্থন ইভিএম বক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়, সেটাই এখন দেখার। তবে শুক্রবারের এই পদযাত্রা যে ঘাসফুল শিবিরের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তা নিয়ে সংশয় নেই কোনো মহলেই।