নিজস্ব প্রতিবেদন, মেদিনীপুর: বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে উত্তপ্ত সবং। শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে দলের প্রার্থী মানস রঞ্জন ভুঁইয়ার সমর্থনে আয়োজিত জনসভা থেকে বিজেপিকে তুলোধোনা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, দিনভর রাজ্য রাজনীতিতে চর্চায় রইল শুভেন্দু অধিকারীর করা ‘ভুয়ো’ প্রেস কার্ডের অভিযোগ।
অভিষেকের হুঙ্কার
সবংয়ের জনসভায় তৃণমূল কর্মী সাথী ঘোড়াই কুইলাকে হেনস্থার ঘটনার উল্লেখ করে অভিষেক তোপ দাগেন গেরুয়া শিবিরের দিকে। তাঁর অভিযোগ, সাথীকে তাঁর দু’বছরের মেয়ের সামনেই বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা চরম হেনস্থা ও গালিগালাজ করেছে। এই ঘটনার জেরে নির্বাচন কমিশনের কাছে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে অভিষেক কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, ‘‘৪ মে ভোটের ফল বেরোনোর পর পুলিশ যাদের ধরছে না, তাদের হিড়হিড় করে টেনে সাথীর বাড়িতে নিয়ে আসব। হাত জোড় করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করব।’’ এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নিয়ে তাঁর সংযোজন, ‘‘আমি নেত্রীর মতো অত সৌজন্যে বিশ্বাস করি না। ৪ মে জয়ের উৎসবে রবীন্দ্রসংগীতের পাশাপাশি ডিজে মিউজিকও বাজবে।’’ অভিষেকের এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে।
শুভেন্দুর নিশানায় আইপ্যাক
নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরে শুরু হয়েছে ‘কার্ড’ যুদ্ধ। শুক্রবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে দাবি করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে নিজেদের কর্মীদের ‘ভুয়ো’ প্রেস কার্ড বা সাংবাদিক পরিচয়পত্র বিলি করছে। সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে শুভেন্দুর দাবি, রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-এর (I-PAC) মদতেই এই চক্রান্ত চলছে।
শুভেন্দুর অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরা সাংবাদিকের ছদ্মবেশে বুথ এবং প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোতে ঢুকে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের রক্ষাকবচ ব্যবহার করে তারা বুথে অবৈধ কাজকর্ম চালাতে চাইছে বলে বিরোধী দলনেতার দাবি। এই অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর আর্জি, দ্রুত সমস্ত নতুন প্রেস কার্ড যাচাই করা হোক।
প্রথম দফার ভোটের আগে দুই হেভিওয়েটের এই সংঘাত এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।