নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় রাজ্যে কেন্দ্রীয় এজেন্সির সক্রিয়তা ঘিরে ফের তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ। শুক্রবার সকালে তিলোত্তমার দুই প্রান্তে তৃণমূলের দুই প্রভাবশালী নেতার বাড়িতে অতর্কিতে হানা দিলেন আয়কর দপ্তরের আধিকারিকরা। রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের পাশাপাশি এদিন আয়কর হানা চলে কালীঘাটের তৃণমূল নেতা কুমার সাহার বাড়িতেও।
সকাল থেকেই অভিযান
শুক্রবার সকাল থেকেই দক্ষিণ কলকাতার দুই নেতার ঠিকানায় শুরু হয় তল্লাশি। কালীঘাটের গ্রিক চার্চ সংলগ্ন এলাকায় কুমার সাহার বাড়িতে পৌঁছায় আয়কর দপ্তরের আধিকারিকদের একটি দল। সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল কনভয়। জওয়ানরা বাড়িটি ঘিরে ফেলার পরেই শুরু হয় তল্লাশি। একই সময়ে দক্ষিণ কলকাতার মনোহরপুকুর রোডে দেবাশিস কুমারের বাড়িতে এবং তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়েও হানা দেন আয়কর আধিকারিকরা।
হঠাৎ কেন এই জোড়া অভিযান, তা নিয়ে আয়কর দপ্তরের তরফে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে নির্বাচনের মুখে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই কড়া নজরদারি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এই দুই অভিযানের মধ্যে কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে।
প্রতিবাদে তৃণমূল
ভোটের মুখে দলের নেতা ও প্রার্থীর বাড়িতে এই কেন্দ্রীয় অভিযানকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করেছে শাসকদল। সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তৃণমূলের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই বিজেপি কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করছে। তৃণমূল নেতৃত্বকে ভোটের আগে কালিমালিপ্ত ও অপদস্ত করার লক্ষ্যেই এই ‘পরিকল্পিত’ হানা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি ঘাসফুল শিবিরের।
এই কেন্দ্রীয় তল্লাশির জল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি।