নিজস্ব প্রতিবেদন, নদিয়া ও কলকাতা:** আজ রাজ্যের ভাগ্য নির্ধারণের অন্তিম লগ্ন। মেগা ফাইনালের সকালেই জেলায় জেলায় তপ্ত রাজনৈতিক বাতাবরণ। কোথাও ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ, কোথাও আবার এজেন্টকে বুথে ঢুকতে বাধা। তবে দ্বিতীয় দফার (মতান্তরে শেষ দফার) এই হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে হিংসার আবহে শিরোনামে উঠে এল নদিয়ার চাপড়া। সাতসকালে বুথের কাছেই আক্রান্ত হলেন বিজেপি এজেন্ট। অভিযোগের আঙুল যথারীতি শাসকদল তৃণমূলের দিকে।
রড-শাবলে হামলা চাপড়ায়, হাসপাতালে এজেন্ট
ভোট শুরুর প্রথম লগ্ন থেকেই অশান্তির খবর আসছিল নদিয়ার চাপড়া বিধানসভার ৫৩ নম্বর বুথ এলাকা থেকে। অভিযোগ, বুধবার রাত থেকেই এলাকায় কার্যত ‘কারফিউ’ জারি করেছিল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। বিজেপি সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শাসানি দেওয়া হচ্ছিল— ‘বুথমুখী হলেই বিপদ’।
বৃহস্পতিবার সকালে সেই হুমকিই বাস্তবে রূপ নিল। বুথ থেকে মাত্র ১০০ মিটারের ব্যবধানে এক বিজেপি এজেন্টের ওপর রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, তাঁর মাথায় **৬টি সেলাই** পড়ে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে বিজেপির ‘অন্তর্কলহ’ বলে দাবি করা হয়েছে।
ভবানীপুরে নজরবন্দি মমতা-শুভেন্দু
কলকাতার ১১টি আসনের মধ্যে আজ সবার চোখ দক্ষিণ কলকাতার হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র ভবানীপুরে। এই কেন্দ্রেই মুখোমুখি লড়াইয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং একদা তাঁর ছায়াসঙ্গী তথা অধুনা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই একটি আসনের লড়াইয়ের ওপর নির্ভর করছে অনেক সমীকরণ। এছাড়াও বালিগঞ্জ ও রাসবিহারীর মতো আসনগুলিতেও সমানে সমানে টক্কর চলছে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে।
নিরাপত্তার চাদরে বাংলা: মোতায়েন ২৩২১ কোম্পানি বাহিনী
অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মোতায়ন করা হয়েছে ২৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী,রয়েছে ৩৮,২৯৭ জন রাজ্য পুলিশ। কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মোতায়েন রয়েছে ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোট শতাংশের হার বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক সংঘর্ষের খবর। শেষ হাসি কে হাসবে, তা জানা যাবে আগামী ২রা মে। তবে আজকের এই ‘মরণ-বাঁচন’ লড়াইয়ে সাধারণ ভোটারের রায় কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।