নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা:দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ চলাকালীন খাস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়া কালীঘাটে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের হাতাহাতি, স্লোগান-পাল্টা স্লোগান এবং শেষমেশ কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠিচার্জে কার্যত উত্তপ্ত হয়ে উঠল জয়হিন্দ ভবন চত্বর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হয়।
স্লোগান-পাল্টা স্লোগান, হাতাহাতি
এ দিন দুপুরে ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী কালীঘাটের জয়হিন্দ ভবনের সামনে পৌঁছাতেই উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, শুভেন্দুকে দেখা মাত্রই তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন উপস্থিত বিজেপি কর্মীরাও। দু-পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
বাহিনীর লাঠিচার্জ ও শুভেন্দুর ফোন
পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী সক্রিয় হয়। ভিড় হঠাতে বাহিনীকে **লাঠিচার্জ** করতে হয় বলে খবর। লাঠির ঘায়ে ছত্রভঙ্গ হয় জমায়েত, তবে এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী।
ঘটনাস্থল থেকেই সরাসরি নির্বাচন কমিশনে ফোন করেন তিনি। শুভেন্দুর অভিযোগ,”পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এলাকায় প্রচুর বহিরাগত জমায়েত করা হয়েছে, যারা এই কেন্দ্রের ভোটারই নয়। পুলিশ ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।”
শুভেন্দুর ফোনের মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই কমিশন নড়েচড়ে বসে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠিয়ে জমায়েত সম্পূর্ণ সরিয়ে দেওয়া হয়।
পাল্টা তোপ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ের
অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিকে ঘিরেই পালটা সরব হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বিজেপি প্রার্থী বুথে বুথে ঘুরে সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। অযথা উত্তেজনা ছড়িয়ে ভোটপ্রক্রিয়া ব্যাহত করাই শুভেন্দুর লক্ষ্য বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতি
বিজেপি প্রার্থীর দাবি, প্রার্থী হিসেবে বুথ পরিদর্শন করা তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার। তৃণমূল পরাজয় নিশ্চিত জেনেই গুন্ডামির আশ্রয় নিচ্ছে। যদিও তৃণমূল সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। শেষ পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, এলাকা বর্তমানে থমথমে। মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় আধা-সেনা। অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে এলাকায় শুরু হয়েছে রুট মার্চ।