একাধিক শহরে বাংলাদেশিদের জন্য হোটেলের দরজা বন্ধ
সঙ্কেত ডেস্ক: বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতে একাধিক শহরে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি শহরে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য হোটেলের দরজা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, শিলিগুড়ি ও মালদায় বাংলাদেশিদের হোটেল ঘর ভাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হোটেল মালিকরা। শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, সংগঠনের আওতাধীন ১৮২টি হোটেলে বাংলাদেশিদের কোনওভাবেই ঘর দেওয়া হবে না। এমনকি যাঁরা পুরনো ভিসায় এখনও ভারতে রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। সংগঠনের বাইরের আরও ৩০–৪০টি হোটেলও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
হোটেল মালিক সংগঠনের দাবি, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রতিবছর শিলিগুড়ি হয়ে চিকিৎসা ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে কয়েক হাজার বাংলাদেশি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যান। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশিদের আগমন কিছুটা কমলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ফলে হোটেল নিষেধাজ্ঞার কারণে শিলিগুড়িতে এসে সমস্যায় পড়তে পারেন বহু বাংলাদেশি নাগরিক।
এর আগে বাংলাদেশি হিন্দু হত্যার প্রতিবাদে মালদায়ও হোটেল ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশিদের ঘর ভাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। গত বছরও বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ ওঠার সময় শিলিগুড়ি, কলকাতা সহ রাজ্যের একাধিক শহরে একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, বাংলাদেশে দীপু হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। ওই ঘটনায় কলকাতা পুলিশ ১৯ জনকে গ্রেফতার করে। পরে আলিপুর আদালত তাঁদের মধ্যে ১২ জনের জামিন মঞ্জুর করে। যদিও পুলিশ ওই ১২ জনের ১২ দিনের হেফাজতের আবেদন জানিয়েছিল। পুলিশের দাবি ছিল, ধৃতদের আন্তর্জাতিক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, খুনের চেষ্টার ধারা যুক্ত করা হলেও তার স্বপক্ষে কোনও নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পেশ করা হয়নি।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ পরিস্থিতিকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ।
