সঙ্কেত ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণভেরি বেজে উঠতেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। আর সেই তালিকায় সবথেকে বেশি নজর কেড়েছে শাসক শিবিরের ‘একই পরিবার, একাধিক টিকিট’ ফর্মুলা। চেনা হেভিওয়েটদের পাশাপাশি এবার ঘাসফুল শিবিরের বড় বাজি নেতা-মন্ত্রীদের পরবর্তী প্রজন্ম এবং তাঁদের আত্মীয়রা। রাজনৈতিক মহলের মতে, এবার টিকিট বন্টনে অভিজ্ঞতার সঙ্গে ‘রক্তের টান’-কেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
একই ছাদের তলায় জোড়া টিকিট
তৃণমূলের এবারের তালিকায় একাধিক এমন পরিবার রয়েছে, যেখান থেকে দু’জন করে প্রার্থী হয়েছেন। এই তালিকায় সবথেকে উল্লেখযোগ্য নাম সিঙ্গুরের বেচারাম মান্না। দল যেমন তাঁকে নিজের কেন্দ্রে টিকিট দিয়েছে, তেমনই তাঁর স্ত্রী করবী মান্নাকেও ফের হরিপাল থেকে প্রার্থী করা হয়েছে।
পিছিয়ে নেই পশ্চিম বর্ধমানের শিল্পাঞ্চলও। আসানসোল উত্তরে দাঁড়িয়েছেন হেভিওয়েট মন্ত্রী মলয় ঘটক, আর তাঁর ভাই অভিজিৎ ঘটককে কুলটি থেকে লড়ার ছাড়পত্র দিয়েছে কালীঘাট। পারিবারিক সমীকরণের এই ঢেউ পৌঁছেছে বেহালাতেও। বেহালা পশ্চিমে প্রার্থী হয়েছেন রত্না চট্টোপাধ্যায়, আর তাঁর ভাই শুভাশিস দাস টিকিট পেয়েছেন মহেশতলা থেকে। অর্থাৎ, বিধানসভার লড়াইয়ে এবার একই পরিবারের ভাই-বোনকে একসঙ্গে দেখা যাবে।
নয়া প্রজন্মের উত্থান: নেতার ছেলে এবার প্রার্থী
তৃণমূলের এবারের তালিকায় বড় চমক হলো তরুণ প্রজন্মের অভিষেক। সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবার উত্তরপাড়া থেকে প্রথমবার বিধানসভার লড়াইয়ে নামছেন। অন্যদিকে, পানিহাটির বর্ষীয়ান নেতা নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষকেও প্রার্থী করে নতুন প্রজন্মের ওপর আস্থা দেখিয়েছে দল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে আগামীর ব্যাটন তরুণদের হাতে তুলে দেওয়ার বার্তা দিতে চাইলেন তৃণমূল নেত্রী।
চেনা মুখ ও কুণাল-চমক
পরিবারতন্ত্রের আবহেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু তাঁর নিজের ঘর অর্থাৎ ভবানীপুর থেকেই লড়ছেন। তবে বড় চমকটি তুলে রাখা ছিল দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের জন্য। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। তালিকায় যথারীতি রয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ব্রাত্য বসু এবং দেবাশীষ কুমারের মতো মমতার বিশ্বস্ত সেনাপতিরা।
বিরোধীরা যখন ‘পরিবারতন্ত্র’ নিয়ে সরব হতে শুরু করেছে, তখন তৃণমূলের এই কৌশলী চাল ব্যালট বক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।