নিজস্ব প্রতিবেদন: ভোটের বাংলায় এখন সবথেকে বড় ইস্যু কি তবে ‘ঝালমুড়ি’? ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক থামার লক্ষণ নেই। সোমবার বীরভূমের মুরারইয়ের সভা থেকে সেই প্রসঙ্গ টেনে নরেন্দ্র মোদীকে চেনা মেজাজে আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ওই ঝালমুড়ি আসলে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসপিজি-ই (SPG) তৈরি করে দিয়েছে। গোটা বিষয়টিকে স্রেফ ‘ভোটের নাটক’ হিসেবেই দাগিয়ে দিয়েছেন তিন।
ঝাড়গ্রামে মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হয়েছিল। সেই ছবিকেই হাতিয়ার করে মমতা প্রশ্ন তোলেন, সত্যিই কি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ওভাবে ১০ টাকা ছিল? মুরারইয়ের জনসভা থেকে নেত্রীর কটাক্ষ, “দোকানে মাইক ফিট করে, এসপিজি-কে দিয়ে ঝালমুড়ি তৈরি করিয়েছেন। ১০ টাকা কখনও পকেটে থাকে ওঁর? কত নাটক! নির্বাচনের সময় গুহায় বসে থাকেন। কখনও বলেন চা-ওয়ালা, এখন ১০ টাকা বের করে ঝালমুড়ি খাচ্ছেন! মানুষ কি কিছু বোঝে না?”মমতার অভিযোগ, ঝালমুড়ির দোকানে আগে থেকেই ক্যামেরা ফিট করা ছিল। অর্থাৎ, জনমানসে একটি বিশেষ ছবি তুলে ধরতেই এই আয়োজন করা হয়েছিল বলে তাঁর দাবি।
মুরারইয়ের রেশ কাটার আগেই উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহের সভা থেকেও মোদীকে বিঁধেছেন মমতা। সেখানে ঝালমুড়ির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাঙালির প্রিয় ‘মাছ’। সম্প্রতি মাছ চাষ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের পাল্টা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে বলতেন চা-ওয়ালা, এখন বলছেন ঝালমুড়ি খেয়ে দেখি! মাছটা খেয়ে দেখবেন নাকি?”এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রকারান্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে আমিষ-নিরামিষের রাজনীতি এবং বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপের যে অভিযোগ বারবার তোলেন, সেটিকেই উসকে দিয়েছেন।
ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা নিয়েও সরব হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। খড়দহের মঞ্চ থেকে তাঁর চ্যালেঞ্জ, “ওদের সব এজেন্সির ক্ষমতা বড়, না মানুষের ক্ষমতা বড়— আমিও সেটা দেখতে চাই।”রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জঙ্গলমহলে ঝালমুড়ি খেতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফর দীর্ঘায়িত হওয়ায় হেমন্ত সোরেনের সভা বাতিল হওয়ার যে ক্ষোভ ঘাসফুল শিবির তৈরি করতে চাইছে, মমতার এই ‘এসপিজি-র ঝালমুড়ি’ তত্ত্ব তাতে নতুন মাত্রা যোগ করল। এখন দেখার, পাহাড় থেকে সাগর— ঝালমুড়ির এই ‘ঝাল’ শেষ পর্যন্ত ব্যালট বক্সে কোন দিকে মোড় নেয়।