নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: একদিকে তীব্র দাবদাহের ভ্রুকুটি, অন্যদিকে কলতলায় দীর্ঘ প্রতীক্ষাতেও মিলছে না এক ফোঁটা পানীয় জল। দুর্গাপুরের সগড়ভাঙা এলাকায় জলসংকট এখন চরমে। শুক্রবার সকালে এই বঞ্চনার বিরুদ্ধেই গর্জে উঠলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সগড়ভাঙা মাঝের মোড়ে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে চলল দফায় দফায় বিক্ষোভ। রণক্ষেত্র হয়ে উঠল এলাকা, যার আঁচ গিয়ে পড়ল স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও।
শুক্রবার সকাল থেকেই সগড়ভাঙা পাম্পিং স্টেশনের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন প্রমিলা বাহিনী থেকে শুরু করে স্থানীয় যুবকরা। তাঁদের অভিযোগ, “জল নেই কেন?”—এই সাধারণ প্রশ্নের কোনো উত্তর মিলছে না প্রশাসনের কাছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন বিক্ষোভকারীরা রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে শিল্পনগরীর অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কে যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। আটকে পড়ে বহু স্কুল বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক।
অবরোধ তুলতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পরিস্থিতি রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। উত্তেজিত জনতা পুলিশকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এমনকি পরিস্থিতি সামাল দিতে আসা এক স্থানীয় তৃণমূল নেতাকেও রেয়াত করেননি বাসিন্দারা। তাঁকেও ঘিরে ধরে চলে তুমুল ধস্তাধস্তি ও ক্ষোভ প্রদর্শন। বাসিন্দাদের দাবি, যতক্ষণ না জলের স্থায়ী সমাধান হবে, এই আন্দোলন চলবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাক্যযুদ্ধ।স্থানীয় এক বিজেপি নেতা রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেন, “তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা বড়লোকদের জন্য সুইমিং পুল বানাতে ব্যস্ত, কিন্তু সাধারণ মানুষ এক মাস ধরে জলের জন্য হাহাকার করছে। একবেলা বৃষ্টি হলে দুর্গাপুর জলে ভেসে যায়, অথচ গ্রীষ্ম শুরু হতে না হতেই পানীয় জলের আকাল। পুরসভা নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছে।” :অন্যদিকে, তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতা প্রশাসনের আধিকারিকদের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, এটি সরকারকে কালিমালিপ্ত করার একটি চক্রান্ত। তিনি বলেন,“ডিপিএল (DPL) কর্তৃপক্ষ বা আধিকারিকরা সঠিক সময়ে কেন ব্যবস্থা নেননি, তা খতিয়ে দেখা দরকার। মানুষকে উত্তেজিত করে মুখ্যমন্ত্রী ও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। চার-পাঁচ দিন ধরে মানুষ জল পাচ্ছে না, অথচ এসডিও-কে কেন জানানো হয়নি?”
আপাতত পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ উঠলেও এলাকার পরিস্থিতি থমথমে। সামনেই নির্বাচন, আর তার আগে এই জলসংকট যে শাসক শিবিরের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা বলাই বাহুল্য। বাসিন্দারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে তাঁরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন।