নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর:পর্যাপ্ত বাসের অভাব, নাকি প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা? দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনের আগে মঙ্গলবার সকালে সেই প্রশ্নকেই কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ড এলাকা। নির্দিষ্ট সময়ের পর দীর্ঘক্ষণ অতিক্রান্ত হলেও বাসের দেখা মেলেনি— এই অভিযোগে পথ অবরোধে শামিল হলেন কয়েক হাজার ভোটকর্মী।
প্রশাসন সূত্রের খবর, আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল থেকে এ বার মোট ৪,৭৮১ জন ভোটকর্মীকে ভিন্ জেলায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরেই তাঁদের সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ডে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বেলা বাড়লেও বাসের দেখা নেই। অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভারী ব্যাগ কাঁধে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ভোটকর্মীদের।
বেলা ন’টা বাজতেই ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় কর্মীদের একাংশের। তাঁরা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এর জেরে থমকে যায় যান চলাচল। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দুর্গাপুর থানার পুলিশ।
বিক্ষোভকারী এক ভোটকর্মীর কথায়,“সকাল সাতটা থেকে এসে বসে আছি। ন’টা বেজে গেল, অথচ বাসের টিকি নেই। আমাদের দূর-দূরান্তের ডিসিআরসি (DCRC) কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। সেখানে গিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করা, সরঞ্জাম নেওয়া— সব কাজ সময়মতো না করতে পারলে ভোটের দিন বড় বিপত্তি হতে পারে। প্রশাসন কেন আগে থেকে পর্যাপ্ত পরিবহণের ব্যবস্থা রাখল না?”অন্য এক মহিলা ভোটকর্মীর ক্ষোভ, “হাজার হাজার মানুষকে বাইরে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হল, অথচ বাসের হিসেবে এত গরমিল কেন? ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমাদের নাভিশ্বাস উঠছে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। প্রশাসনের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, কিছু বাসের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং যানজটের কারণে পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। দ্রুত বিকল্প বাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে ভোটকর্মীদের গন্তব্যে পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে।তবে প্রশাসনের এই আশ্বাসে এখনই চিঁড়ে ভিজছে না। বিরোধীদের কটাক্ষ, নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ কাজে যেখানে মাইক্রো-লেভেল প্ল্যানিং দরকার, সেখানে পরিবহণ বিভ্রাট প্রশাসনের অপদার্থতাই প্রমাণ করছে। বেলা গড়াতে বাস আসায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও, নির্দিষ্ট সময়ে ডিসিআরসি কেন্দ্রে পৌঁছানো নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটেনি ভোটকর্মীদের।