নিজেকেই নোটিশ ধরালেন কাটোয়ার বিএলও, একই দিনে শোরগোল মুর্শিদাবাদেও

সঙ্কেত ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের নিয়ম রক্ষায় নিজের পরিবারের প্রতিও কোনও রকম ছাড় নয়—এই বার্তা কার্যত বাস্তবে প্রয়োগ করে দেখালেন কাটোয়ার ১৬৫ নম্বর বুথের বিএলও দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। ভোটার তালিকায় তথ্যগত অসঙ্গতি ধরা পড়তেই কমিশনের নির্দেশ মেনে খোদ নিজেকেই এবং নিজের স্ত্রীকেও শুনানির নোটিশ ধরালেন তিনি। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কাটোয়া শহরে।সম্প্রতি ভোটার তথ্য যাচাইয়ের সময় তাঁর নিজের ও স্ত্রীর নথিতে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ ধরা পড়ে। দেবশঙ্করবাবুর বাবার নাম পুলকেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। সেখানে পদবির বানান ভুল থাকায় কমিশনের নজরে আসে বিষয়টি। অন্যদিকে স্ত্রী অনিন্দিতা চৌধুরীর বাবার নাম অনিল চট্টোপাধ্যায়। তাঁদের বয়সের পার্থক্য ৫০ বছর দেখানো হয়েছে, যা স্বাভাবিক নয় বলেই ধরা পড়ে। এই দুই কারণেই কমিশনের তরফে শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়।

কমিশনের অ্যাপে নোটিশ আসতেই বিএলও হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করেন দেবশঙ্করবাবু। নিজ হাতে নোটিশ ধরিয়ে দেন স্ত্রী অনিন্দিতার কাছে। এই প্রসঙ্গে দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন,“বিএলও হলেও নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে কাজ করতেই হবে। নিজের পরিবার বলে আলাদা কিছু হয় না। আইনের চোখে সবাই সমান।”ফলে এখন সাধারণ নাগরিকদের মতোই লাইনে দাঁড়িয়ে শুনানিতে হাজিরা দিতে হবে এই দম্পতিকে।কাটোয়ার মহকুমা শাসক অনির্বাণ বোস জানান,“বিএলও হলেও কমিশনের নিয়ম সকলের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। নিজের পরিবারের ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম মানতেই হবে।”

এই ঘটনার পাশাপাশি মঙ্গলবার একই রকম আরেকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জ ব্লকে। সেখানে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ করতে গিয়ে নিজের নামেই শুনানির নোটিশ হাতে পান চাচন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের ২১১ নম্বর বুথের বিএলও ও শিক্ষক আবু ওবায়দা বিন জাররাহ।১৯৯৯ সাল থেকে শিক্ষকতা করা আবু ওবায়দা দীর্ঘদিন ধরে বিএলও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মঙ্গলবার সকালে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসআইআর (SIR) যাচাইয়ের কাজ চলাকালীন বিডিও অফিস থেকে তাঁর নিজের নামেই নোটিশ আসে। তিনি বলেন,“২০০২ সাল থেকে টানা ২০২৫ পর্যন্ত প্রতিটি ভোটার তালিকায় আমার নাম রয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার সময় সমস্ত বৈধ নথি জমা দিয়েছি। তারপরও কেন আমাকে শুনানিতে ডাকা হল, বুঝতে পারছি না। তবু নিয়ম মেনে হাজিরা দেব।”

একদিকে কাটোয়ায় নিজের পরিবারকে নোটিশ ধরানো বিএলও, অন্যদিকে মুর্শিদাবাদে নিজেই নিজের কাছে অভিযুক্ত হয়ে পড়া বিএলও—এই দুই ঘটনায় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যেমন সামনে এসেছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *