নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: নির্বাচনের শেষ লগ্নে এসে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দুর্গাপুরের জে সি বোস এলাকা। মঙ্গলবার এলাকায় প্রচার চালানোকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি-র মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় শিল্পাঞ্চল। অভিযোগ, দফায় দফায় বাইক ভাঙচুর এবং লাঠিসোটা নিয়ে আক্রমণের জেরে উত্তেজনা ছড়ায় বিস্তীর্ণ এলাকায়। ঘটনায় তিন বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যার প্রতিবাদে বুধবার সকাল থেকে দুর্গাপুর থানার সামনে বিক্ষোভ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আসানসোলের বিজেপি প্রার্থী এস এস আহলুওয়ালিয়া-র উপস্থিতিতে একটি বর্ণাঢ্য রোড-শো চলছিল। অভিযোগ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মিছিল পৌঁছতেই তাতে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। চন্দ্রশেখরবাবুর দাবি, তৃণমূলের প্রাক্তন পৌর মাতা ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বামী সৌগত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পিরু খান, অকু খানদের মতো ‘চিহ্নিত দুষ্কৃতীরা’ লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হয়। গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং সেন্ট্রাল ফোর্সের উপস্থিতিতেই বিজেপি কর্মীদের ওপর চোটপাট চলে বলে অভিযোগ।
এদিন থানার সামনে বিক্ষোভে বসে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর সাফ কথা, “মার খেল আমাদের ছেলেরা, অথচ গ্রেফতার করা হলো আমাদেরই তিন কর্মীকে! ও সি নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছেন।” সেই সঙ্গে কাঁকসা থানার এক সাব-ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে সিভিক ভলান্টিয়ারদের দিয়ে মদ্য এবং টাকা বিলি করার মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তিনি। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে চন্দ্রশেখরবাবু হুঁশিয়ারি দেন, “অযোগ্য পুলিশ আধিকারিকদের না সরালে আমরা নির্বাচনে অংশ নেব কি না, তা ভেবে দেখব। প্রয়োজনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে।”
বিজেপির এই অভিযোগকে অবশ্য আমল দিতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। দূর্গাপুর পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ মজুমদারের মতে, এই ধরণের অশান্তি একেবারেই ‘অনভিপ্রেত’। তাঁর পাল্টা দাবি, “তৃণমূল কংগ্রেস কোনোভাবেই সন্ত্রাসকে সমর্থন করে না। পুলিশ প্রশাসনের কাজ করবে, এর মধ্যে রাজনীতি খোঁজা অর্থহীন।” বিরোধীদের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান, দুর্গাপুরের মানুষ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পক্ষেই রায় দেবেন।
আপাতত এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। তিন বিজেপি কর্মীর গ্রেফতারি এবং পুলিশের ভূমিকা ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে শিল্পনগরীতে।