পুলিশের ‘ফুল অ্যাকশন’ মোডে সচল ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক, রেল স্টেশনে ব্যাপক তাণ্ডবে বিপর্যস্ত পরিষেবা
সঙ্কেত ডেস্ক: টানা দু’দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে পুলিশি হস্তক্ষেপে সচল হলো মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। শনিবার দুপুরে পুলিশ সুপার সানি রাজের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ (RAF) লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের হটিয়ে দেয়। তবে সড়কপথ সচল হলেও বেলডাঙা স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুরের জেরে শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অশান্তির সূত্রপাত হয়েছিল। শনিবার সেই আগুনে ঘি ঢালে একটি গুজব। বিহারে মারধরের শিকার হওয়া বেলডাঙার এক যুবককে আজ এলাকায় ফিরিয়ে আনা হলে রটে যায় যে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। যদিও পুলিশ সূত্রে খবর, ওই যুবক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই গুজবকে কেন্দ্র করেই সকাল থেকে বড়ুয়া মোড় সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীরা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে একাধিক গাড়িতে ভাঙচুর চালায়।পরিস্থিতি সামাল দিতে দুপুরে সশরীরে ময়দানে নামেন জেলা পুলিশ সুপার সানি রাজ। পুলিশ অবরোধ তোলার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-বৃষ্টি শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে। বেশ কিছুক্ষণ খণ্ডযুদ্ধের পর ছত্রভঙ্গ হয় জনতা। পুলিশ সুপার বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ আলোচনার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু বিক্ষোভকারীরা শোনেননি। বাধ্য হয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের পদক্ষেপ করতে হয়েছে।”
সড়কপথ মুক্ত হলেও রেলের ওপর আছড়ে পড়ে বিক্ষোভের রোষ। বিক্ষোভকারীরা বেলডাঙা স্টেশনে ঢুকে সিগন্যাল ব্যবস্থা এবং রেলগেট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এর ফলে শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কলকাতা থেকে আরপিএফ-এর বিশেষ বাহিনী বেলডাঙার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।শুক্রবারকের পর শনিবারও বেলডাঙায় খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হয়েছে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের। বিক্ষোভকারীদের হাতে একাধিক সাংবাদিক লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ। বর্তমানে এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ। থমথমে পরিস্থিতিতে চলছে মুহুর্মুহু টহল।
