বিজেপি অফিসে মদের বার! জামালপুরে হুলস্থুল

সঙ্কেত ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের আগেই পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে বিজেপির অন্দরের তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্বন প্রকাশ্যে এল। দলের প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে নামাঙ্কিত পার্টি অফিসে মদের আসর বসানোর অভিযোগকে ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন জেলা বিজেপি সভানেত্রী স্মৃতিকণা বসুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একাধিক নেতা।বুধবার রাতে জামালপুরের ‘শ্যামাপ্রসাদ ভবন’-এ আদি বিজেপি কর্মীরা অতর্কিতে হানা দিয়ে মদের বোতল, গ্লাস ও খাবার উদ্ধার করেন বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই জামালপুর বিধানসভা এলাকায় বিজেপির আদি ও নব্য কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। আদি বিজেপি শিবিরের অভিযোগ ছিল, সন্ধ্যা নামলেই দলীয় কার্যালয়ে মদের আসর বসানো হয়। নির্দিষ্ট খবর পেয়ে বুধবার রাতে আদি বিজেপি কর্মীরা পার্টি অফিসে পৌঁছান।অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক সৌমেন হাজরা, জামালপুরের ৩ নম্বর মণ্ডল সভাপতি অসীম শীল, ১ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ বাগ এবং ৩ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক সমীরণ দাস। টেবিলের উপর থেকে মদের বোতল ও গ্লাস উদ্ধার হতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আদি বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, উত্তেজনার মধ্যে অভিযুক্ত নেতাদের মারধর করে পার্টি অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। বর্তমানে ওই দলীয় কার্যালয়টি আদি বিজেপি কর্মীদের দখলে রয়েছে। ১ নম্বর মণ্ডলের সহ-সভাপতি সুশান্ত মণ্ডল জেলা সভানেত্রী স্মৃতিকণা বসুর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেন, তাঁর প্রশ্রয়েই দলের আদর্শবিরোধী কাজকর্ম চলছে। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য বরাদ্দ ‘বিএলএ-২’ তহবিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “বিজেপি একটি আদর্শগত দল। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে নামাঙ্কিত ভবনের একটি মর্যাদা রয়েছে। সেখানে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য কাটোয়া সাংগঠনিক জেলাকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের কাউকেই আড়াল করা হবে না।

অন্যদিকে, জেলা সভানেত্রী স্মৃতিকণা বসু বলেন, “আমি এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। পুরো বিষয়টি খতিয়ে না দেখে মন্তব্য করব না।”

এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিজেপিকে আক্রমণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু কটাক্ষ করে বলেন, “এটাই বিজেপির আসল চেহারা। আগামী নির্বাচনে মানুষ এর জবাব দেবে।”

নির্বাচনের মুখে দলের অন্দরের এমন কোন্দল ও বিতর্কিত ঘটনার জেরে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *