নিজস্ব প্রতিবেদন, দুর্গাপুর:প্রথম দফার ভোটের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার অপেক্ষা। প্রচারের শেষলগ্নে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ রাজনৈতিক দলগুলি। মঙ্গলবার সকালে দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কবি দত্তকে দেখা গেল একেবারে ঘরের ছেলের মেজাজে। চড়া রোদে জনসংযোগের হাতিয়ার হিসেবে তিনি বেছে নিলেন শিল্পাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র— বেনাচিতি বাজার।
এদিন সাতসকালে রায়ডাঙ্গায় কর্মীদের নিয়ে জনসংযোগ সারেন প্রার্থী। সেখান থেকে সরাসরি পৌঁছে যান বেনাচিতির মাছ ও সবজি বাজারে। রঙিন জামা আর চেনা হাসি মুখে নিয়ে কখনও সবজি বিক্রেতা, আবার কখনও বাজারের থলে হাতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
তবে সভার সেরা মুহূর্তটি তৈরি হয় মাছ বাজারে। প্রার্থীকে সামনে পেয়ে কার্যত আবেগে ভেসে যান এক মৎস্যজীবী। ঝুড়ি থেকে একটি টাটকা জ্যান্ত মাছ তুলে সরাসরি প্রার্থীর হাতে তুলে দেন তিনি। কবি দত্তও হাসিমুখে সেই উপহার গ্রহণ করেন। বাজারের ভিড়ের মধ্যে প্রার্থীর হাতে রুপোলি শস্যের এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত আমজনতার মধ্যেও হাসির রোল ওঠে।
আগামী ২৩ এপ্রিল এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। হাতে সময় নেই বললেই চলে। তাই প্রচারের শেষ দিনে কোনও বড় সভার বদলে মানুষের দুয়ারে পৌঁছানোকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তৃণমূল শিবির। বাজার থেকে বেরোনোর সময় কবি দত্ত জানান— “মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি, এটাই বড় পাওনা। বেনাচিতির মানুষ সবসময় উন্নয়নের পাশে থেকেছেন, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।”
দুর্গাপুর পশ্চিমে এবার লড়াই হাড্ডাহাড্ডি। একদিকে বিজেপির ঘর রক্ষার লড়াই, অন্যদিকে তৃণমূলের হারানো জমি পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ। প্রচারের শেষ দিনে মাছ বাজারের এই ‘সৌজন্য’ ভোটবাক্সে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তা জানা যাবে আগামী ৪ মে। তবে মঙ্গলবার সকালে কবি দত্তর এই ঘরোয়া প্রচার যে বেনাচিতির ভোটারদের মনে আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছে, তা মানছেন এলাকার ব্যবসায়ীরাও।