নিজস্ব প্রতিবেদন, দুর্গাপুর:ভোটের বাদ্যি বাজার পর থেকেই পারদ চড়ছিল শিল্পাঞ্চে। তবে প্রচারের শেষ লগ্নে এসে সেই উত্তাপ যেন কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার। মঙ্গলবার বিকেলে দুর্গাপুর পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলঝোড় মোড়ে আয়োজিত জনসভা কার্যত পরিণত হল এক মেগা শো-তে। রাজনৈতিক বক্তৃতার পাশাপাশি নচিকেতা-কেশবদের সুরে মেতে উঠলেন কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক।
এদিন প্রদীপের সমর্থনে ফুলঝোড় মোড়ের মঞ্চে হাজির হয়েছিলেন একঝাঁক হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব। ছিলেন বর্ধমান-দুর্গাপুরের সাংসদ কীর্তি আজাদ এবং বর্ধমানের সাংসদ শর্মিলা পোদ্দার। জনসভার মূল আকর্ষণ অবশ্য ছিল সাংস্কৃতিক পর্ব। মঞ্চে উঠেই নিজের চেনা মেজাজে গান ধরেন জীবনমুখী গানের প্রবাদপ্রতিম শিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী। তাঁর গানে যখন ফুলঝোড় মোড় গমগম করছে, ঠিক তখনই মঞ্চ মাতিয়ে দেন বর্তমান প্রজন্মের জনপ্রিয় গায়ক কেশব দে। দুই শিল্পীর সুরের মূর্ছনায় দলীয় কর্মীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ‘তারকা-কৌশল’ নতুন কিছু নয়, তবে শেষ লগ্নে বড় জমায়েত করে বিরোধীদের কাছে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য। জনসভার ভিড় দেখে তৃপ্ত শাসক শিবিরের দাবি”মানুষ প্রদীপ মজুমদারের উন্নয়ন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্পের পক্ষেই রয়েছেন। আজকের ভিড়ই বলে দিচ্ছে ফল কী হবে।”
তবে এই গ্ল্যামার আর সুরের মূর্ছনা কি শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত হবে? বিরোধীদের একাংশের কটাক্ষ, “ভোটের মাঠে গান-বাজনা সাময়িক উন্মাদনা তৈরি করলেও রুটি-রুজির প্রশ্নগুলো অমীমাংসিতই থেকে গেছে।”শিল্পাঞ্চলে লাল-গেরুয়া শিবিরের পাল্লা কতটা ভারি হবে তা সময় বলবে, তবে মঙ্গলবারের এই ‘তারকা মেলা’ যে তৃণমূলের পালে বাড়তি হাওয়া দিল, তা নিয়ে সংশয় নেই কোনো মহলেই। সব মিলিয়ে, প্রচারের শেষ দিনে ফুলঝোড় মোড় দেখল এক জমজমাট রাজনৈতিক দ্বৈরথের প্রাক্-মুহূর্ত।